রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,
জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে জীবন বাঁচাতে তাৎক্ষণিক করণীয় নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে জীবন বাঁচাতে তাৎক্ষণিক করণীয় নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ

দৈনন্দিন জীবনে অসাবধানতা কিংবা ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগের কারণে প্রায়ই মর্মান্তিক বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা ঘটে থাকে। তবে চোখের সামনে এমন দুর্ঘটনা ঘটলে সঠিক পদক্ষেপের অভাবে অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তির পাশাপাশি উদ্ধারকারীরও প্রাণহানি ঘটে। অগ্নিকাণ্ড, দুর্যোগ ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, কাউকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সবচেয়ে নিরাপদ উপায়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাই প্রধান দায়িত্ব।

দুর্ঘটনার মুহূর্তে সবচেয়ে মারাত্মক ভুল হলো খালি হাতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে টেনে ছাড়ানোর চেষ্টা করা। উদ্ধারকারীকে সবার আগে মূল সংযোগ বা মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে। কোনো কারণে মেইন সুইচ বন্ধ করা সম্ভব না হলে খালি হাতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনোভাবেই স্পর্শ করা যাবে না।

এ ক্ষেত্রে পায়ে শুকনো স্যান্ডেল পরে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে শুকনো কাঠ, বাঁশ কিংবা রাবারের মতো অপরিবাহী বস্তু দিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিদ্যুতের উৎস থেকে আলাদা করতে হবে। কোনো ধরনের ভেজা বস্তু বা ধাতব উপাদান ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ফলে মানবদেহে প্রধানত দুটি মারাত্মক সংকট দেখা দেয়। এর একটি হলো শরীরের বহিরাংশ ও অভ্যন্তরীণ টিস্যু পুড়ে যাওয়া এবং অপরটি হলো হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর তীব্র বৈদ্যুতিক চাপ তৈরি হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির আকস্মিক কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ঘটা।

ক্রিটিক্যাল কেয়ার চিকিৎসকেরা জানান, উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে রোগী তাৎক্ষণিকভাবে চেতনা হারাতে পারেন, শরীর অসাড় বা অবশ হয়ে যেতে পারে কিংবা তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তিকে সমতল মেঝেতে বালিশ ছাড়া একপাশে কাত করে শুইয়ে রাখতে হবে।

শরীরে রক্তপ্রবাহ সচল ও স্বাভাবিক রাখতে পরনের আঁটসাঁট পোশাক ঢিলা করে দিতে হবে এবং হাত-পায়ে হালকাভাবে মালিশ করতে হবে। একই সঙ্গে রোগীর মুখের ভেতরের অবস্থা পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় অচেতন অবস্থায় জিহ্বা উল্টে গিয়ে কিংবা মুখে কোনো বস্তু আটকে শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আঙুল দিয়ে মুখের ভেতর পরিষ্কার করে নিশ্চিত করতে হবে যেন শ্বাসপথ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকে।

যদি রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় বা তীব্র সংকট দেখা দেয়, তবে মুখে মুখ লাগিয়ে সজোরে কৃত্রিম শ্বাস দিতে হবে এবং বুকের মাঝখানে দুই হাতের তালু রেখে নির্দিষ্ট ছন্দে নিয়মিত চাপ দিয়ে সিপিআর প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে। প্রাথমিক এই পরিচর্যা শেষ করেই কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করা বাধ্যতামূলক।

তবে দুর্ঘটনা ঘটার পর চিকিৎসার চেয়ে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। বাসা-বাড়িতে ছেঁড়া বা উন্মুক্ত তারে টেপ পেঁচিয়ে জোড়াতালি দেওয়ার অভ্যাস পুরোপুরি পরিহার করতে হবে।

একই সঙ্গে অতিরিক্ত মাল্টিপ্লাগ ব্যবহার এবং স্যাঁতসেঁতে বা ভেজা স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন থেকে বিরত থাকা জরুরি। ভবনে মানসম্মত বৈদ্যুতিক তার, স্বয়ংক্রিয় সার্কিট ব্রেকার স্থাপন এবং যথাযথ আর্থিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।