সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

হীরামন টিয়ার টানে ভোর হতেই নওগাঁর মাঠে ক্যামেরা হাতে দেশের নানা প্রান্তের মানুষ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ১১:০১ পিএম

হীরামন টিয়ার টানে ভোর হতেই নওগাঁর মাঠে ক্যামেরা হাতে দেশের নানা প্রান্তের মানুষ

হেমন্তের শিশিরভেজা ভোরে নওগাঁর বদলগাছিতে সবুজ ফসলের মাঠজুড়ে ডানা মেলছে একঝাঁক রঙিন হীরামন টিয়া। ফসলের মাঠ ও উন্মুক্ত প্রান্তরে দল বেঁধে উড়ে বেড়ানো এই পাখিদের মনোমুগ্ধকর রূপ দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও আলোকচিত্রীরা।

বদলগাছি উপজেলার দোনাইল গ্রামের ফসলি মাঠে এখন যেন পাখিদের মিলনমেলা। ভোর থেকেই ক্যামেরা ও ভিডিও ধারণের নানা সরঞ্জাম হাতে মাঠে উপস্থিত হচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী পাখিপ্রেমী।

দর্শনার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হীরামন টিয়ারা সাধারণত সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই খাবারের সন্ধানে সক্রিয় হয়ে ওঠে। সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে দল বেঁধে এরা মাঠে নেমে আসে এবং প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে খাওয়া শেষ করে ফিরে যায়। এরপর আবার বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে চারটার দিকে শুরু হয় তাদের দ্বিতীয় দফার বিচরণ, যা চলে প্রায় বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত।

পাখিদের খাবারের জোগান নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় দোনাইল গ্রামের পাখিপ্রেমী যুবক আরিফ আফরান।

তিনি জানান, এসব হীরামন টিয়া সাধারণত পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে সাময়িক সময়ের জন্য আসে এবং জুন-জুলাই মাসের দিকে খাবারের সন্ধানে আবার ফিরে যায়। এলাকায় বিপুলসংখ্যক পাখির আগমন দেখে তিনি নিজ জমিতে ব্যক্তিগত খরচে বিদেশ থেকে বীজ সংগ্রহ করে ‘জনসন’ জাতের ঘাস চাষ করেছেন। মূলত এই ঘাসের ফুল ও বীজ খেতেই প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে মাঠে নামে হীরামন টিয়ার দল।

পাখিদের এমন শৈল্পিক উড়াউড়ি ও খাবার গ্রহণের দৃশ্য ফ্রেমবন্দী করতে ইতিমধ্যে রাজধানী ঢাকা, রাজশাহী, জয়পুরহাটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৬০ থেকে ৭০ জন পেশাদার ও শৌখিন আলোকচিত্রী বদলগাছিতে এসেছেন। এখনো প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০ জন করে নতুন আলোকচিত্রী মাঠে এসে পাখিদের স্বাভাবিক বিচরণ ক্যামেরা ক্যামেরাবন্দী করছেন।