অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পাঠ্যবইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার চিত্র সংযোজন নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের জেরে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) এক কর্মকর্তাকে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়েছে। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রশাসনিক রদবদলের আদেশ জানানো হয়।
বদলি হওয়া কর্মকর্তার নাম মু. আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের। তিনি বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা এবং এনসিটিবিতে প্রেষণে গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। নতুন আদেশে তাকে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক পদে পদায়ন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিজ বেতন ও বেতনক্রমে তাকে বর্ণিত নতুন পদে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
অন্যথায় নির্দিষ্ট ওই তারিখের অপরাহ্নে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হয়েছেন বলে গণ্য হবেন। বদলিকৃত কর্মকর্তাকে আবশ্যিকভাবে নিজস্ব পিডিএসে প্রবেশ করে অবমুক্ত ও যোগদানের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, বৃহত্তর জনস্বার্থেই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলো।
দাঁড়িপাল্লা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পাঠ্যবইটি থেকে বিতর্কিত প্রতীকটি বাদ দিয়ে দ্রুত সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড।
এরই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে সংশ্লিষ্ট বইটির ছাপাখানাগুলোতে মুদ্রণ কার্যক্রম স্থগিত রাখার জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে যে পরিমাণ বই মাঠপর্যায়ে পৌঁছে গেছে, সেগুলো সরাসরি ফেরত এনে প্রতীক পরিমার্জন শেষে নতুন করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের মালিকদের দাবি, নির্ধারিত এই বইটির মুদ্রণ, বাঁধাই এবং মাঠপর্যায়ে সরবরাহের প্রক্রিয়া অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।
ফলে উপজেলা ও মাঠপর্যায় থেকে সরবরাহকৃত বইগুলো নতুন করে প্রত্যাহার ও পৃষ্ঠা সংশোধন করতে গেলে সরকারের বিপুল অঙ্কের বাড়তি অর্থব্যয় হবে এবং নির্ধারিত সময়ে বই পৌঁছানো নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হবে।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো ফিরিয়ে এনে প্রতীকটি পরিমার্জন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর সেগুলো শিক্ষার্থীদের মাঝে আবার বিতরণ করা হবে। আপাতত বইটির মুদ্রণ বন্ধ রাখার পাশাপাশি মাঠে পাঠানো বই সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের `উপাত্ত ও তথ্য` শীর্ষক পাঠ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সেখানে মূলত জ্ঞানের পিরামিডের তাত্ত্বিক কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।
পিরামিডটির স্তরবিন্যাসে নিচ থেকে ওপরের দিকে যথাক্রমে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা—এই চারটি পৃথক ধাপ সাজানো হয়। এই প্রতিটি ধাপের তাৎপর্য বোঝাতে আলাদা আলাদা দৃশ্যমান প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
এতে উপাত্তের স্তরে ব্যবহার করা হয় পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো দেখতে একটি বৃত্তাকার নকশা। তথ্যের স্তরে স্থান পায় পরমাণু বা নেটওয়ার্ক কাঠামোর সদৃশ একটি প্রতীক এবং জ্ঞানের স্তর বোঝাতে যুক্ত করা হয় মানুষের মস্তিষ্কের স্কেচ। তবে পিরামিডের শীর্ষতম স্তর `প্রজ্ঞা` নির্দেশ করতে সরাসরি দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়, যা রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
এনসিটিবি সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইটির প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল। যার সিংহভাগই ইতিমধ্যে ছাপা শেষ হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে সব শ্রেণি মিলিয়ে দেশজুড়ে প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই মুদ্রণের বিশাল কর্মযজ্ঞ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন