রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা চাইলেন খাদ্যমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৩:০১ পিএম

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা চাইলেন খাদ্যমন্ত্রী

জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত খাদ্যশস্যের গুণগত মান যাচাই এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্য মজুতের সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উন্নত কারিগরি সহায়তা চেয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। রোববার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন তাঁর সাথে এক আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ সহায়তা কামনা করা হয়।

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক কারিগরি ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানিকৃত চাল ও গমের গুণগত মান পরীক্ষার বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে খাদ্য পরীক্ষার জন্য মার্কিন বিশেষজ্ঞ এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের সুনির্দিষ্ট অনুরোধ জানান তিনি।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও আর্দ্র আবহাওয়াজনিত বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে চাল ও গমের মতো খাদ্যশস্য সুরক্ষিত অবস্থায় মজুত রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

এ ক্ষেত্রে খাদ্যশস্য দীর্ঘ সময় অপচয়মুক্ত রাখার উন্নত সংরক্ষণ প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক আধুনিক ব্যবস্থাপনায় মার্কিন বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বাস্তব সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন খাদ্যমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে এবং বন্দর পর্যায়ে খাদ্য পরীক্ষার কারিগরি সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট মার্কিন বিশেষজ্ঞদের কার্যকর সহযোগিতার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে গম আমদানির বর্তমান অগ্রগতি নিয়েও সন্তোষজনক পর্যালোচনা হয়। পূর্বনির্ধারিত সরকারি চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মানসম্মত গম আমদানি প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা না থাকায় উভয় পক্ষই গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এ সময় খাদ্যমন্ত্রী সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত গমবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ সরাসরি পরিদর্শনের ব্যক্তিগত ইতিবাচক অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রদূতের সামনে তুলে ধরেন।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট, বাংলাদেশের খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খানসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও গভীর করে খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করা, বন্দরের ল্যাব সক্ষমতা জোরদার এবং আধুনিক খাদ্য গুদামজাতকরণ ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নে যৌথ সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়।