অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ১১:১০ পিএম
শিল্প-সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে দেশের মূলধারার অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি জানান, লোকজ শিল্প-সংস্কৃতি, গ্রামীণ কারুশিল্প, সংগীত, চলচ্চিত্র ও থিয়েটারকে মূলধারার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে যুক্ত করে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির নতুন ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
শনিবার রাজধানীর বনানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত এক প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ‘ক্রিয়েটিভ ফুটপ্রিন্টস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সনাতন অর্থনৈতিক চিন্তাধারায় শিল্প ও সংস্কৃতিকে সব সময় অন্যান্য বাণিজ্যিক ও শিল্পোৎপাদনের পেছনে ফেলে রাখা হতো। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই সীমাবদ্ধ ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে একে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিবেচনা করছে।
সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি উদ্যোগের একার পক্ষে এই খাতের দ্রুত বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এ কারণে নীতিগত সংস্কার ও অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সাথে শক্তিশালী অংশীদারি গড়ে তোলা হচ্ছে। জাতীয় বাজেটে ইতিমধ্যে এই খাতের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং আশাব্যঞ্জকভাবে বেসরকারি খাত থেকেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আসতে শুরু করেছে।
তিনি আরও জানান, দেশীয় কারুশিল্পী, চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যের ডিজাইন আধুনিকীকরণ এবং বিশ্ববাজারে ব্র্যান্ডিং তৈরিতে সরকারের নীতিগত সহায়তা বাড়ানো হবে।
আমাজন, ইবে ও আলিবাবার মতো শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক অনলাইন বিপণন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের ঐতিহ্যবাহী এসব পণ্য বাজারজাত করার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রান্তিক অঞ্চলের শিল্পীদের কাজের ন্যায্য আর্থিক মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে, যা তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।
সংগীত, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও সমৃদ্ধ হস্তশিল্পের ঐতিহ্য বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদাপূর্ণ পরিচিতি তুলে ধরার অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে দেশে এক অভূতপূর্ব সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক উপস্থিত থেকে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন