শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,
সংবিধান সংস্কার বৈঠক

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে স্পিকারকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৮:২১ পিএম

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে স্পিকারকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব

বিচার বিভাগকে না জড়িয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রস্তাব এসেছে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে।

শনিবার জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে দেশের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্টজনদের মতামত নিতে ধারাবাহিক এই বৈঠকের আয়োজন করছে কমিটি।

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৈঠকে অনেকে প্রস্তাব দিয়েছেন যাতে কোনোভাবেই বিচার বিভাগকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করা না হয়।

এর বিকল্প হিসেবে বিরোধী দলের সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্পিকারকে প্রধান করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নতুন প্রক্রিয়ার কথা আলোচনায় উঠে এসেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সঠিক প্রক্রিয়ায় সবার মতামত ও আলোচনার মাধ্যমেই সংবিধান সংশোধন করা হবে। অতীতের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বেআইনিভাবে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে একদলীয় কায়দায় নিজেদের মতো করে সংবিধানে পরিবর্তন এনেছিল। কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত কোনো গণতান্ত্রিক সরকার সেই পথে হাঁটবে না।

আইনজীবীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্যের মতো মৌলিক প্রশ্নগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়। এর পাশাপাশি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরপেক্ষ নিয়োগ পদ্ধতি চালুর বিষয়টিও জোরেশোরে আলোচনায় আসে।

গণভোট নিয়ে চলমান আইনি বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটের আইনি প্রশ্নে বিতর্ক থাকলেও এর মাধ্যমে আসা জনগণের রায়কে সরকার সম্মান জানায়। তবে ভবিষ্যতে আবার কোনো গণভোটের আয়োজন করা হলে তা মূলত সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়েই হবে।

সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে কমিটির সভাপতি আহ্বান জানান, বিরোধী দল যদি চায় বিএনপি তাদের ‍‍`নোট অব ডিসেন্ট‍‍` বা আপত্তিপত্র প্রত্যাহার কিংবা পুনর্বিবেচনা করুক, তবে তাদের বৈঠকে এসে কথা বলতে হবে। এই ঐতিহাসিক সংবিধানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে বিরোধী দলকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।