অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
দেশজুড়ে চাঁদাবাজির বিস্তার সম্পূর্ণ নির্মূল করতে শিগগিরই একটি যুগোপযোগী ও কঠোর নতুন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। প্রস্তাবিত এই আইন কার্যকর হলে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই পুলিশ নিজে বাদী হয়ে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবে।
শনিবার খুলনা পুলিশ লাইনে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুলিশপ্রধান এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেন।
মো. আলী হোসেন ফকির উল্লেখ করেন, সমাজে যারা চাঁদাবাজির সাথে জড়িত, তারা সাধারণত রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। এই ক্ষমতার ভয়ে সাধারণ মানুষ বা ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা থানায় গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ দায়ের করতে কিংবা আদালতে সাক্ষ্য দিতে সাহস পান না। এই বাস্তব সংকট নিরসন করে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতেই নতুন এই বিশেষ আইনের খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে।
আইনটি পাস হলে কোনো নাগরিকের আনুষ্ঠানিক এজাহারের অপেক্ষায় না থেকে পুলিশ যেকোনো বিশ্বাসযোগ্য ডিজিটাল প্রমাণ পেলেই নিজ উদ্যোগে অপরাধীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
আইজিপি দৃঢ়তার সাথে বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আপনারা দেখবেন নতুন আইন হচ্ছে এবং এই জাতীয় অপরাধ সমাজ থেকে চিরতরে নির্মূল হবে।
আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশের পেশাগত প্রতিকূলতা ও জটিল চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোর বা বলপ্রয়োগ করলে তাদের ঢালাওভাবে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দেওয়া হয়। আবার অন্যদিকে পুলিশ সংযত থাকলে কিংবা বলপ্রয়োগ না করলে তাদের দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আমরা এই দুই ধরনের সমালোচনার কোনোটিই দেখতে চাই না।
সবাইকে সাথে নিয়ে একটি সত্যিকারের পেশাদার ও কার্যকর বাহিনী গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জানান, সমাজে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতিমুক্ত মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যেই নতুন প্রজন্মের পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন।
আইজিপি আরও অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছরে মাদককে সমাজের একটি স্বাভাবিক ও স্বীকৃত বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।
তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে শতভাগ শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। এই তিন সামাজিক ব্যাধি সমূলে উৎপাটন করতে পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।
কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থাকে নতুন করে পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, অতীতে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা কেবল কাগুজে আনুষ্ঠানিকতা বা বইয়ের ভেতরে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে একে মাঠপর্যায়ে সত্যিকারের কার্যকর রূপ দেওয়া হচ্ছে। আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকেই পুলিশের বিশেষ শাখা হিসেবে কমিউনিটি পুলিশিং নিজস্ব দায়িত্ব পালন করবে।
সভায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান ও খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক মো. রেজাউল করিমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন