শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,
সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি

পিএইচপি দুর্বলতায় বিশ্বজুড়ে সাইবার ঝুঁকি বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম

পিএইচপি দুর্বলতায় বিশ্বজুড়ে সাইবার ঝুঁকি বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতা ধরা পড়ার পর লাখ লাখ ওয়েবসাইটের সুরক্ষা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই প্রযুক্তিগত ত্রুটি কাজে লাগিয়ে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সাইবার হামলা চালানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এমন বৈশ্বিক নিরাপত্তাঝুঁকি থেকে সংবেদনশীল আর্থিক তথ্য সুরক্ষিত রাখতে নিজেদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সফটওয়্যার ও ওয়েব প্ল্যাটফর্ম নির্মাণে বহুল ব্যবহৃত এই স্ক্রিপ্টিং ভাষার পূর্ণ রূপ হলো হাইপারটেক্সট প্রিপ্রসেসর। বর্তমানে ইন্টারনেটে সচল থাকা মোট ওয়েবসাইটের প্রায় ৭০ শতাংশ তৈরিতেই কোনো না কোনোভাবে এই ভাষার প্রয়োগ রয়েছে।

সম্প্রতি উন্মোচিত হওয়া দুটি জটিল ত্রুটি কাজে লাগিয়ে অনলাইন ডেটাবেজে অনধিকার প্রবেশের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে দেশের ডিজিটাল আর্থিক অবকাঠামোতেও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সাইবার জগতের এই ঝুঁকির বিষয়টি আগেভাগেই আঁচ করতে পেরে সতর্কতা হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত তথ্য চুরির ঘটনা ঠেকাতেই এই আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। বর্তমানে ব্যাংকের নিজস্ব তথ্যপ্রযুক্তি দল সাইটের নিরাপত্তা শতভাগ সুরক্ষিত করে তা পুনরায় দ্রুত চালু করতে পুরোদমে কাজ করছে।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানালাইজেন বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সফটওয়্যার প্রকৌশলী সুমিত সাহার মতে, পিএইচপির এই ধরনের ত্রুটিকে কাজে লাগিয়ে যেকোনো হ্যাকার মারাত্মক ধ্বংসাত্মক সাইবার আক্রমণ চালাতে পারে।

তিনি ব্যাখ্যা করে জানান, নির্দিষ্ট কোনো স্ক্রিপ্টের মাধ্যমে কোনো অ্যাপ্লিকেশনের মেমোরির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হলে অপরাধীরা খুব সহজেই মূল ডেটাবেজ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। যেকোনো ওয়েবসাইট কিংবা ডিজিটাল সফটওয়্যারের প্রাণকেন্দ্র হলো সংরক্ষিত ডেটা, আর হ্যাকারদের মূল লক্ষ্য থাকে এই ডেটা হাতিয়ে নেওয়া। ডেটার নিয়ন্ত্রণ চলে গেলে পুরো ডিজিটাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা বেদখল হয়ে যায়। তবে তিনি আশ্বস্ত করে জানান যে সমস্যাটি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিকভাবে দ্রুত এর সিকিউরিটি প্যাচ বা সুরক্ষা হালনাগাদ উন্মুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে দেশের প্রায় ৩৬ হাজার সরকারি ওয়েবসাইটের দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি।

সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান আশ্বস্ত করেছেন যে বাংলাদেশের এই সরকারি পোর্টালগুলো মূলত পিএইচপিনির্ভর কাঠামোর ওপর গড়ে ওঠেনি। ফলে আন্তর্জাতিক এই দুর্বলতার প্রত্যক্ষ প্রভাব দেশের সরকারি পোর্টালগুলোর ওপর পড়ার ঝুঁকি নেই বললেই চলে। তবে যে সকল দেশীয় প্রতিষ্ঠান বা সেবা পিএইচপিভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে, তাদের সার্বক্ষণিক কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং জরুরি প্যাচ ইনস্টল করে নিরাপত্তা জোরদার করার আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।