অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
গাজীপুরের টঙ্গীতে শিশুর প্রতি অশালীন আচরণের অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় বামপন্থিরা জড়িত বলে দাবি করেছেন ধর্মীয় বক্তা হাফেজ ক্বারী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই দাবি করেন। তবে নিজের এই বক্তব্যের সপক্ষে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
ভিডিওতে জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ অভিযোগ করেন, এক মাদ্রাসা শিক্ষককে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে এবং এর পেছনে আলেম সমাজের প্রতি পূর্বশত্রুতা কাজ করেছে। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এ কথাও উল্লেখ করেন যে, কোনো মাদ্রাসায় যদি কেউ অনৈতিক অপরাধ বা বলাৎকারে লিপ্ত হয়, তবে তার কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
পরদিন শনিবার দুপুরে ফেসবুকে আরেকটি পোস্ট দিয়ে তিনি দাবি করেন, কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে স্নেহ করা ধর্মীয় দৃষ্টিতে দোষের কিছু নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই নানা ইস্যুতে নিজস্ব বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন এই ধর্মীয় বক্তা। এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার সময়ও তিনি ফেসবুকে তৎপর ছিলেন। পরে ওই অভিযোগটি ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে তীব্র সমালোচনার মুখে নিজের পোস্ট সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে টঙ্গীর ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার দুপুরে আউচপড়া এলাকার ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায়।
ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনকে চড় মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের দায়ের করা মামলায় ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে অস্বীকৃতি জানালে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। কাউকে জানালে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও শিশুটি অভিযোগ করে। এরপর শিশুর অভিভাবক মাদ্রাসায় গিয়ে ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে চড় মারেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন