শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

আব্দুল হাই সাইফুল্লাহ বললেন নিজ সন্তানের নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নয়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ১২:২০ এএম

আব্দুল হাই সাইফুল্লাহ বললেন নিজ সন্তানের নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নয়

সন্তানের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস বা ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক ও খতিব মাওলানা আব্দুল হাই মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভেরিফায়েড পাতায় দেওয়া এক প্রকাশ্য বার্তায় তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের ওপর অভিভাবকত্ব ও শাসনের সীমারেখা টেনে তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীর প্রতি শাসন, স্নেহ ও যত্নের একটি নির্দিষ্ট পরিধি রয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই নৈতিক মানদণ্ড আরও কঠোর হওয়া আবশ্যক। ‘পিতার মতো’ কিংবা ‘বড় ভাইয়ের মতো’ কোনো পরিচয়ই কোনো প্রকার সীমালঙ্ঘনকে বৈধতা দিতে পারে না। যারা স্নেহ ও শাসনের সঠিক সীমা উপলব্ধি করতে পারেন না, শিক্ষকতার মহান নৈতিক দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা নিয়েই তাদের প্রশ্নের মুখে পড়া উচিত বলে তিনি মত দেন।

নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে এই ইসলামি স্কলার জানান, কোনো অভিযোগ উঠলে সেটির নিরপেক্ষ তদন্ত হতে হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি তদন্তের আগেই কোনো প্রকার পক্ষপাতদুষ্ট বা একপেশে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান জানান। সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষার নামে অপরাধ গোপন করার মানসিকতার কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

তার মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যেকোনো অনৈতিকতা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা দ্বিগুণ ক্ষতিকর। এটি একদিকে যেমন অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতাও ধূলিসাৎ করে দেয়।

আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়ে আব্দুল হাই সাইফুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, নিজেদের অন্যায় আড়াল করে অন্যের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হওয়া কোনো সুস্থ নৈতিকতা হতে পারে না। এমন আচরণ বজায় রেখে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রকৃত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করতে পারে না। নিজেদের ভুল বা অন্যায়কে স্পষ্টভাবে স্বীকার করতে না পারলে এবং নিজেদের সংশোধন না করলে অন্যদের উপদেশ বা ওয়াজ করার কোনো নৈতিক যোগ্যতা থাকে না।

ন্যায়বিচারের মানদণ্ড কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, পদমর্যাদা কিংবা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ের ভিত্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে না বলে তিনি জোর দেন।

বার্তার সমাপ্তিতে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেন, সন্তানের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অভিভাবকের পক্ষ থেকে কোনো আপস করা চলবে না। বাইরের মানুষ কী ভাবল বা কী মন্তব্য করল, তা উপেক্ষা করে সন্তানের সুরক্ষাকেই সবার শীর্ষে স্থান দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।