বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

নিজের নামের আগে শায়খ কেন কারণ জানালেন আহমাদুল্লাহ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

নিজের নামের আগে শায়খ কেন কারণ জানালেন আহমাদুল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত

নিজের নামের আগে শায়খ কেন ব্যবহার করা হয়, সে বিষয়ে খোলামেলা ব্যাখ্যা দিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আহমাদুল্লাহ। সম্প্রতি সাংবাদিক আকবর হোসেনের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এই বহুল আলোচিত সম্মানসূচক শব্দের প্রকৃত তাৎপর্য ও প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তিনি। আলাপচারিতার একপর্যায়ে সঞ্চালক জানতে চান যে সাধারণত দেশে ইসলামী স্কলারদের নামের পূর্বে মুফতি বা মাওলানা জাতীয় পরিচিতি দেখা গেলেও তাঁর নামের শুরুতে ‘শায়খ’ যুক্ত হওয়ার কারণ কী।

উত্তরে আহমাদুল্লাহ জানান, শায়খ মূলত একটি সম্মানসূচক ভূষণ বা সম্বোধন। সমাজে শ্রদ্ধা প্রদর্শনের স্বার্থে যেভাবে ‘জনাব’ কিংবা ‘শ্রদ্ধেয়’ শব্দ ব্যবহার করা হয়, শায়খ শব্দটিও ঠিক সে ধরনের অর্থ বহন করে। এটি মূলত কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় ও সামাজিক জ্যেষ্ঠতা বা অভিজ্ঞতাকে নির্দেশ করে থাকে।

আরব বিশ্বে এটি বহুল প্রচলিত একটি সাধারণ উপাধি ও সামাজিক সম্ভাষণ। সেখানকার স্থানীয় সংস্কৃতিতে সাধারণ আলেম-ওলামা থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নাগরিক পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সৌজন্য বজায় রাখতে এই সম্বোধন ব্যবহার করেন, যদিও ইসলামী পণ্ডিতদের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার কিছুটা বেশি হয়ে থাকে।

তিনি নিজের প্রবাস জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সৌদি আরবে তিনি প্রায় ১০ বছর অবস্থান করেছিলেন। সেখানে দেশটির ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাভাষী প্রবাসীদের ধর্মীয় নানা বিষয়ে সহায়তা দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। কোনো প্রবাসী আইনি জটিলতা বা মামলায় জড়িয়ে পড়লে কখনো কখনো স্থানীয় আদালতের বিচারকদের সাথে দোভাষীর দায়িত্বও পালন করতে হতো তাঁকে।

সেখানকার বাংলাভাষী সাধারণ নাগরিকেরাও তাঁকে নিয়মিত ‘শায়খ’ বলে সম্বোধন করতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। সেই দীর্ঘদিনের সামাজিক সংযোগ থেকেই মূলত শব্দটি তাঁর নামের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত হয়ে যায়।

তিনি স্পষ্ট করেন যে এটি বিশেষ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা আনুষ্ঠানিক অর্জনের মাধ্যমে পাওয়া কোনো উপাধি নয়।

মুফতিদের ক্ষেত্রে যেমন সুস্পষ্ট ধর্মীয় পাণ্ডিত্য, প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা বা বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করার সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকে, শায়খ সম্বোধনের বিষয়টি তেমন কোনো বাধ্যবাধকতা নয়।

বাংলাদেশে যেভাবে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের শ্রদ্ধার সাথে মাওলানা কিংবা হুজুর বলে সম্বোধন করার সামাজিক রেওয়াজ রয়েছে, ঠিক একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যে এই সম্মান প্রকাশের ভাষা হিসেবে শায়খ শব্দটি স্বাভাবিকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।