বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,
সামাজিক অবক্ষয় ও ধর্ম

রুমিন ফারহানা সমাজে অন্যায় ও ধর্মীয় অপব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম

রুমিন ফারহানা সমাজে অন্যায় ও ধর্মীয় অপব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন

রুমিন ফারহানা সমাজে বিরাজমান নানাবিধ গুরুতর অপরাধ, দুর্নীতি, নারীর প্রতি সহিংসতা ও চরম ধর্মীয় ভণ্ডামির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সমাজ ও ধর্মাচারের মধ্যে থাকা দ্বিমুখী নীতি ও অনৈতিকতার দীর্ঘ তালিকা তুলে ধরে তিনি কঠোর সমালোচনা করেছেন।

পাপাচারে লিপ্ত হলে ধর্ম না যাওয়ার দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

সামাজিক মাধ্যমে নিজের একটি প্রকাশ্য বক্তব্যে সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সমাজের ২২টি অনৈতিক ও অপরাধমূলক বাস্তবতার উদাহরণ সরাসরি টেনে আনেন। তিনি উল্লেখ করেন, বলাৎকার, প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণ, নিষ্পাপ শিশু ধর্ষণ বা নির্যাতন, এমনকি মানুষকে নির্মমভাবে খুন করার মতো অপরাধ ঘটলেও সমাজের অনেকের কাছে ধর্ম যায় না। নারীর ওপর শারীরিক ও মানসিক সহিংসতা চালানো কিংবা নারীকে কুরুচিপূর্ণ মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটলেও ধর্মহানির কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতারণার চিত্রও তিনি সবিস্তারে তুলে ধরেন। অন্যের মূল্যবান সম্পদ জোরপূর্বক লুটপাট করা, প্রকাশ্য প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ঠকানো এবং সারাক্ষণ মিথ্যার চর্চা করে চলা সত্ত্বেও সমাজ নির্বিকার থাকে।

 

ব্যক্তিগত চরিত্রের স্খলন প্রসঙ্গে তিনি কঠোর আক্রমণ শানিয়েছেন।

তিনি বলেন, নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধরা পড়ে তথাকথিত ‍‍`মুতা বিয়ে‍‍`র সাফাই দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা, মোনাফেকি ও দ্বিচারিতাকে জীবনের মূল আদর্শ বানানো এবং ধর্মকে স্রেফ ব্যবসায় পরিণত করার পরেও কারও ধর্মবিশ্বাস নিয়ে টান পড়ে না। পারিবারিক অবিচারের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, বোনের বৈধ সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা ভাই আত্মসাৎ করলে কিংবা জন্মদাতা পিতা-মাতাকে বৃদ্ধ বয়সে অবহেলায় ভাগাড়ে নিক্ষেপ করলেও সমাজ সোচ্চার হয় না।

ব্যবসায়িক ও খাদ্য নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর অনিয়মগুলোও তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে এসেছে। অন্যের ন্যায্য হক বা অধিকার কেড়ে খাওয়া, অবিরাম অসত্যের বিস্তার ঘটানো, এবং ধর্মকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত ঢাল বানিয়ে পাপাচারে লিপ্ত থাকার মতো অপরাধকে সমাজ স্বাভাবিকভাবে নেয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের দ্বারা ওজনে বা পরিমাপে কম দেওয়া, খাদ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক ও ক্ষতিকর ভেজাল মেশানো, ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া, দুর্বল ও অসহায় মানুষের ওপর নির্বিচার অত্যাচার চালানো এবং অন্যায়কারী দুষ্টদের লালন-পালন করার মাধ্যমে ধর্ম যেন সমাজে আরও শক্তিশালী হয়।

এই দীর্ঘ অসঙ্গতির চিত্র তুলে ধরে তিনি তীব্র শ্লেষের সাথে জানান, এতসব ঘৃণ্য পাপাচার ও গুরুতর অপরাধে ধর্ম বিনষ্ট না হলেও কেবল অন্য ধর্মের প্রতি মানবিক সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করলেই তথাকথিত ধর্মান্ধদের ধর্ম চলে যায়।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাধারণ অজ্ঞতা নিয়েও খোঁচা দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে দেবী দুর্গা মূলত দশভুজা, তিনি আটভুজা নন। অজ্ঞতার এই সাধারণ বিষয়গুলো না বুঝে সমাজে প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রবণতাকে তিনি মূর্খতার প্রকাশ বলে আখ্যায়িত করেন।