অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা এবং পরবর্তীতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হওয়ার রাষ্ট্রীয় প্রস্তাব বিনম্রভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।সম্প্রতি সাংবাদিক আকবর হোসেনের সঙ্গে এক একান্ত আলাপচারিতায় তিনি জানান, সাধারণ মানুষের কাছে দেওয়া নিজের একটি ওয়াদা রক্ষা করতেই তিনি এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেননি।
শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যখন সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাকে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হয়, তখন তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তা নাকচ করে দেন।
তিনি সংশ্লিষ্টদের স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, সরকারের এমন একটি বিশাল ও জটিল প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত নন।বরং সেই দায়িত্বের জন্য তিনি নিজেই ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন এবং সরকারের কাছে তার জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়ে দেন।
পরবর্তীতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে নতুন খতিব নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হলে আবারও শায়খ আহমাদুল্লাহর নাম বিবেচনায় আনা হয়।স্বয়ং ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে জাতীয় মসজিদের খতিবের পদ গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। সরকারের বাইরে থেকেও বিভিন্ন মহল তাকে এ দায়িত্ব নিতে ক্রমাগত উৎসাহিত করেছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাবও গ্রহণ করেননি।
দায়িত্বগুলো না নেওয়ার মূল কারণ তুলে ধরে শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বর্তমানে একটি আদর্শ বহুমুখী মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ চলছে।প্রকল্পটি শুরুর সময় তিনি সাধারণ মানুষকে কথা দিয়েছিলেন যে এই মসজিদে তিনি নিজেই নিয়মিত জুমার নামাজের ইমামতি ও খুতবা পরিচালনা করবেন।
তার সেই প্রতিশ্রুতির ওপর গভীর আস্থা রেখেই দেশ-বিদেশের অগণিত সাধারণ মানুষ মসজিদ কমপ্লেক্সটি নির্মাণে মুক্তহস্তে অনুদান দিয়েছেন।
তিনি মনে করেন, বায়তুল মোকাররমের খতিবের দায়িত্ব গ্রহণ করলে সাধারণ মানুষের সাথে করা তার সেই আমানত ও প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ হতো। তিনি এই মসজিদটিকে কেবল একটি সাধারণ উপাসনালয় হিসেবে নয়, বরং সমাজের বহুমুখী কল্যাণের একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, দেশ ও মানুষের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য কোনো সরকারি পদ বা বড় প্রশাসনিক চেয়ারে আসীন থাকা একেবারেই অপরিহার্য নয়। একজন মানুষ চাইলে নিজস্ব অবস্থান থেকেই সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন