অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সড়ক অবরোধকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উজোবাজারে সাজেক সড়কের ব্যারিকেড সরিয়ে অবরুদ্ধ পর্যটকদের খাগড়াছড়ির দিকে পাঠানোর সময় এই সংঘাতের সূচনা হয়। গোলাগুলির মধ্যেও পর্যটকরা নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরেছেন।
এর আগে বুধবার দুপুরে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা যৌথ বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার থেকে সাজেক সড়কে ফের অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উজোবাজার এলাকায় সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করে অবস্থান নেন অবরোধকারীরা। সকাল সাড়ে আটটায় সাজেক থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী গাড়িগুলো সেখানে পৌঁছালে বাধার মুখে পড়ে।
বেলা ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পর্যটকদের বহর পার করার লক্ষ্যে সড়ক থেকে ব্যারিকেড অপসারণের চেষ্টা করেন। এ সময় আন্দোলনকারী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। তবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও সকালে সাজেক থেকে রওয়ানা হওয়া প্রায় তিন হাজার পর্যটকের গাড়ি বহর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তাবেষ্টনীতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার কাছাকাছি নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়।
বর্তমানে অবরোধকারীরা উজোবাজারে অবস্থান করছেন এবং সংঘাত এড়াতে ওই এলাকা ও আশপাশের সড়কে বিপুলসংখ্যক যৌথবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।
সংগঠন দুটির যৌথ বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, জনসংহতি সমিতির (সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যরা এখনো সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ভিটেমাটি ছাড়া করছে। এছাড়া জুমচাষিদের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যার কারণে ভয়ে তারা হলুদ ও ঝাড়ুফুলের বাগান পরিচর্যা করতে জুম পাহাড়ে যেতে পারছেন না। প্রশাসন লোকদেখানো অভিযান চালালেও জনসংহতি সমিতির বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ তুলে তাদের এলাকা থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।
সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা বলেন, প্রশাসনের সাথে তাদের আলোচনা চলছে, তবে ঘোষিত তিন দফা দাবির স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান চলবে। তিনি আরও জানান, শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিন অবরোধ স্থগিত রাখা হয়েছিল এবং পর্যটকদের সাজেক ত্যাগের জন্য সময়ও দেওয়া হয়। প্রশাসন ওই সময় কোনো সমাধানমূলক আলোচনায় আসেনি বলেই পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী তারা সড়কে নেমেছেন।
পাল্টা বক্তব্যে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা। তিনি দাবি করেন, এগুলো ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সাজানো অপপ্রচার; সাজেকে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের ওপর তারা যে নিপীড়ন ও সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে, তা থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরাতেই এই অবরোধ ও অভিযোগের নাটক সাজানো হয়েছে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, এলাকায় থেমে থেমে গুলিবর্ষণের তথ্য পাওয়া গেছে, তবে ভ্রমণে যাওয়া সব পর্যটককে সম্পূর্ণ নিরাপদে সাজেক থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন