অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
আজান ও ইকামত ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতীকী নিদর্শন। নামাজের এই প্রধান আহ্বানের সময় বাক্য উচ্চারণে ভুল হওয়া বা কোনো বাক্য অসাবধানতাবশত বাদ পড়ার ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়তের সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট সমাধান রয়েছে। একইভাবে আজান বা ইকামত সম্পন্ন করার পর ভুলের বিষয়ে মনে নিছক সংশয় তৈরি হলে কিংবা ভুল প্রমাণিত হলে করণীয় বিষয়েও ফিকহ শাস্ত্রে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চলমান অবস্থায় ভুল শনাক্ত হলে প্রথম থেকে শুরু করার বাধ্যবাধকতা নেই।
আজান কিংবা ইকামত দেওয়া অবস্থায় কোনো একটি বাক্য উচ্চারণের পর যদি মনে হয় যে এর আগের বাক্যটি ভুল হয়েছে বা বাদ পড়ে গেছে, তবে প্রথম থেকে পুরো আজান বা ইকামত পুনরায় আদায় করতে হয় না। এক্ষেত্রে যে বাক্যটি বাদ পড়েছিল বা ভুল উচ্চারিত হয়েছিল, মুয়াজ্জিন সঙ্গে সঙ্গে সেই বাক্যটি সঠিকভাবে উচ্চারণ করবেন। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাকি অংশ শেষ করবেন।
একটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি ফিকহবিদগণ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
কোনো মুয়াজ্জিন যদি ভুলবশত ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ না বলেই ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ উচ্চারণ করে ফেলেন এবং দ্বিতীয় বাক্য বলার সময় তার স্মৃতিতে আসে যে পূর্ববর্তী বাক্যটি বাদ পড়েছে, তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বাদ পড়া ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ বাক্যটি দুইবার উচ্চারণ করবেন। এরপর পুনরায় নিয়মমাফিক ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ পাঠ করে যথারীতি আজান সমাপ্ত করবেন।
আজান ও ইকামত পুরোপুরি শেষ করার পর যদি কেবল সন্দেহ দেখা দেয়, তবে তাতে কোনো ভ্রুক্ষেপ করতে হবে না।
নিছক সংশয়ের কারণে পুনরায় নতুন করে আজান বা ইকামত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে আজান সমাপ্তির পর যদি ভুল হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়, তবে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় আজান দিয়ে নেওয়া মুস্তাহাব বা উত্তম। ফতোয়ায়ে হিন্দিয়ার দ্বিতীয় খণ্ডের ৩২০ পৃষ্ঠা এবং আল মুহিতুল বুরহানির প্রথম খণ্ডের ৩৪৮ পৃষ্ঠায় এই সংক্রান্ত বিধান বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন