অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
গোপনে বিয়ে করে পরবর্তীতে বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাক হয়ে গেলে অতীতের সেই ঘটনা সবার কাছে প্রকাশ করা ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আবশ্যক নয় বলে বিধান দেওয়া হয়েছে। ইসলামে ব্যক্তিগত গোপন পাপ বা অতীতের ভুল অনাবশ্যকভাবে জনসমক্ষে প্রচার না করার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
অতীতের বিচ্ছেদ অপ্রয়োজনে প্রচার জরুরি নয়।
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়েতে অভিভাবকের সম্মতি এবং অন্তত দুজন নির্ভরযোগ্য সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব ও কবুল সম্পন্ন হওয়া অন্যতম মৌলিক শর্ত। বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সিদ্ধান্তকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদিস শরিফে এ বিষয়ে তাগিদ দিয়ে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন যে, অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ শুদ্ধ বা সংঘটিত হয় না; যা তিরমিজি শরিফের ১১০১ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
পরিবার-পরিজনকে না জানিয়ে কিংবা ঘোষণা ছাড়া গোপনে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে ইসলামে অনুৎসাহিত করা হয়েছে। এটি একাধারে সামাজিক শালীনতা পরিপন্থি ও লজ্জাজনক আচরণ হিসেবে বিবেচিত। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা প্রকাশ্যে ও আনন্দপূর্ণ ঘোষণার মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে তাগিদ দিয়েছেন। তবে কোনো কারণে কেউ গোপনে বিয়ে করার পর সেই বৈবাহিক সম্পর্ক যদি তালাকের মাধ্যমে ভেঙে যায়, তবে তা পরবর্তীতে সবাইকে ডেকে জানানো ইসলামের দৃষ্টিতে বাধ্যতামূলক কোনো বিষয় নয়।
ইসলামের নীতি হলো, আল্লাহ তাআলা যে ত্রুটি বা ব্যক্তিগত বিষয় গোপন রেখেছেন, বান্দা নিজে তা অপ্রয়োজনে প্রকাশ করবে না। এ প্রসঙ্গে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করে বলেছেন, তাঁর উম্মতের সকল পাপী ব্যক্তি ক্ষমা লাভ করতে পারে, তবে তারা নয় যারা নিজেদের গোপন পাপ জনসমক্ষে প্রকাশ করে বেড়ায়। সহিহ বুখারির ৬০৬৯ নম্বর এবং সহিহ মুসলিমের ৭৬৭৬ নম্বর হাদিসে এই নির্দেশনা স্পষ্টভাবে এসেছে।
তবে এমন পরিস্থিতির ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবিক সতর্কতার কথা বিবেচনা করতে হবে।
ভবিষ্যতে যদি নতুন কোনো বিয়ের ক্ষেত্রে আইনি, সামাজিক বা পারিবারিক জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে, তবে তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। যেমন কাবিননামার কোনো আনুষ্ঠানিক নথি, পূর্বের কোনো আর্থিক দেনাপাওনার দাবি, কিংবা ভবিষ্যতের কোনো আইনি বিরোধ বা প্রতারণার অভিযোগ ওঠার ঝুঁকি থাকলে তা গোপন রাখা সংগত হবে না। এমন অবস্থায় একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী ও বিশ্বস্ত আলেম বা ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সেই বিষয়ে সঠিক পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, গোপনে বিয়ে ও তালাকের পর কোনো ব্যক্তি যদি পুনরায় নতুন কোনো সম্পর্কে আবদ্ধ হতে চান, তবে নতুন জীবনসঙ্গীর কাছে অতীতের সব অপ্রকাশিত খুঁটিনাটি খুলে বলা ফরজ বা সরাসরি বাধ্যতামূলক নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে সরাসরি মিথ্যা বলে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া বৈধ হবে। এমন কোনো বাস্তব পরিস্থিতি যদি সামনে আসে যেখানে প্রকৃত সত্য আড়াল করলে অপর পক্ষ চরম ক্ষতির মুখে পড়বে বা মারাত্মক প্রতারণার শিকার হবে, সেখানে কৌশলী অথচ বাস্তবসম্মতভাবে সীমিত সত্য প্রকাশ করা বাঞ্ছনীয়।
ইসলামি আইনশাস্ত্রে বিশেষ কয়েকটি নাজুক প্রেক্ষাপটে `তাওরিয়া` বা কৌশলী অভিব্যক্তির মাধ্যমে জবাব দেওয়ার অবকাশ রাখা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ভালোবাসা, শান্তি ও সামাজিক সংহতি টিকিয়ে রাখা। তিরমিজি শরিফের ১৯৪৫ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া অসত্য কথাকে কোনোভাবেই অনুমোদন করেননি। এর মধ্যে একটি হলো স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে কিছু বলা, দ্বিতীয়টি হলো যুদ্ধের কৌশলগত প্রয়োজনে, এবং তৃতীয়টি হলো দুই পক্ষের মধ্যকার বিরোধ দূর করে সুসম্পর্ক ও পারিবারিক সম্প্রীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে কিছু বলা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন