বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,
সাজেক পর্যটনে অচলাবস্থা

সাজেক সড়কে নতুন করে অবরোধের মুখে তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

সাজেক সড়কে নতুন করে অবরোধের মুখে তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর

সাজেক সড়কে নতুন করে ডাকা অবরোধ কর্মসূচির কারণে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে আটকা পড়ার আশঙ্কায় থাকা ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ নিরাপত্তা প্রহরায় পর্যটকবাহী বিভিন্ন যানবাহন সাজেক থেকে বাঘাইহাটের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখান থেকে পরবর্তীতে তাদের নিরাপদে খাগড়াছড়ি জেলা সদরে পৌঁছে দেওয়ার সার্বিক ব্যবস্থা করে প্রশাসন।

সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টার দিকে সাজেক সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং শুরু করেন অবরোধকারীরা। এতে সাজেকের সঙ্গে দূরপাল্লার সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি ব্যাহত হয়। হাজার হাজার পর্যটকের নিরাপত্তা নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ তৈরি হলে দ্রুত তাদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উদ্ভূত সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগের দিন বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে পর্যটক ভ্রমণের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।

সাজেক সড়কে দফায় দফায় এমন অচলাবস্থা তৈরির ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত ১১ অক্টোবর তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছিল। সে সময় গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পিকেটিং চলার কারণে খাগড়াছড়ির সঙ্গে সাজেকের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং এক হাজারের বেশি পর্যটক আটকা পড়েন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তখন সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে প্রায় ১ হাজার ২০০ পর্যটককে পাহারা দিয়ে সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। একই সাথে বাইরে থেকে সাজেকে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা পর্যটকদের চলাচলও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। তৎকালীন প্রেক্ষাপটে জেলা প্রশাসন সাজেক পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পর্যটকদের এলাকা ছাড়ার আহ্বান জানায়।

পরবর্তীতে শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসব ও স্থানীয় অর্থনীতির ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল। গত ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত পূজার ছুটির দিনগুলোতে যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে অবরোধ স্থগিত থাকে এবং প্রশাসনও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রথম দিনেই পাঁচ শতাধিক পর্যটক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাজেকে প্রবেশ করেছিলেন।

পূজার ছুটির সমাপ্তিতে ফের অবরোধ শুরু হওয়ায় এখানকার সামগ্রিক পর্যটন খাত নতুন করে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে পর্যটননির্ভর এই পাহাড়ি অঞ্চলের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে। সাজেকের রিসোর্ট, কটেজ, পরিবহন ব্যবস্থা, খাবার রেস্তোরাঁ এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা সরাসরি এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ করে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগাম বুকিং নেওয়া কটেজ মালিক ও পরিবহন শ্রমিকরা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

ব্যবসায়ীদের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মন।

তিনি জানান, সড়কে অবরোধের কারণে নির্ধারিত ছুটি শেষ হওয়ার আগেই পর্যটকদের তড়িঘড়ি সাজেক ছাড়তে হয়েছে। এতে সাধারণ পর্যটক যেমন ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, তেমনি ব্যবসায়ীরাও বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রমণ সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে এবং অবরোধ ও প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে দ্রুতই সাজেক আবার ভ্রমণপিপাসুদের জন্য উন্মুক্ত হবে বলে তারা আশাবাদী।

স্থানীয় অংশীজনরা মনে করছেন, সাজেকের পর্যটন শিল্পের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং প্রান্তিক মানুষের জীবিকা সচল রাখতে কেবল পাহারা দিয়ে পর্যটক উদ্ধার করাই যথেষ্ট নয়, বরং বারবার সড়ক অবরোধের পেছনের মূল কারণ ও দাবিগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।