রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,
ছুটির পর্যটন প্রস্তুতি

দুর্গাপূজার ছুটিতে কক্সবাজারে ছয় লাখ পর্যটক সমাগমের আশা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ১১:০৫ পিএম

দুর্গাপূজার ছুটিতে কক্সবাজারে ছয় লাখ পর্যটক সমাগমের আশা

দুর্গাপূজার ছুটিতে কক্সবাজারে ছয় লাখেরও বেশি পর্যটক সমাগমের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা। আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনের টানা সরকারি ছুটিতে সমুদ্রনগরীতে এই বিপুলসংখ্যক অতিথিকে বরণ করে নিতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে উপকূলীয় পর্যটন জেলাটির অধিকাংশ হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে আগাম বুকিংয়ের ধুম পড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের হিসাবে আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ কক্ষের বুকিং সম্পন্ন হয়ে গেছে।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, টানা ছুটিতে প্রতিদিন গড়ে এক লাখের বেশি পর্যটক সৈকতে পদার্পণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী পাঁচ দিনে সমাগম হতে পারে ছয় লাখেরও বেশি মানুষের। সৈকত শহরে বিভিন্ন ক্যাটাগরির পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও কটেজ রয়েছে। সেগুলোর সিংহভাগ কক্ষেই আগাম সংরক্ষণ নিশ্চিত হয়েছে।

তারকা মানের হোটেলগুলোর সাড়া আরও ইতিবাচক বলে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার হোটেল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি নাজিম উদ্দীন। তিনি জানান, টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে অভিজাত প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগ কক্ষ বিক্রি হয়ে গেছে এবং ব্যবসায়ীরা একটি লাভজনক উৎসব মৌসুম প্রত্যাশা করছেন।

রামুর মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পেঁচারদ্বীপে অবস্থিত Mermaid Beach Resort-এর ব্যবস্থাপক রানা কর্মকার উল্লেখ করেন, তাদের রিসোর্টের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং হয়েছে। দুর্গাপূজায় আগত অতিথিদের আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পাশাপাশি রিসোর্টের উন্মুক্ত রেস্তোরাঁয় বহিরাগতদের জন্যও ঘুরে দেখা ও খাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এদিকে তারকা মানের হোটেল Best Western Heritage-এর ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজার তারেক আজিজ জানান, তাদের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ আগাম বরাদ্দ হয়ে গেছে। পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিতে আগামী ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটিতে এক হাজার ২০০ টাকায় ৫০টিরও বেশি পদের বিশেষ বুফে ডিনারের সুবিধা রাখা হয়েছে।

পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের অস্বাভাবিক চাপ সামাল দিতে আগামী ২০, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর বিশেষ ট্রেন পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

নির্ধারিত ট্রাফিক সূচি অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর দুপুর আড়াইটায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে ‘ঢাকা স্পেশাল’, যা রাজধানীতে পৌঁছাবে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। একই দিন রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ যাত্রা শুরু করে পরদিন সকাল ছয়টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজারে পৌঁছাবে।

পরবর্তী দফায় ২৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টায় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বিশেষ ট্রেন ছেড়ে গিয়ে রাত আটটায় ঢাকায় পৌঁছাবে। ওই দিন রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ পুনরায় কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়ে পরদিন সকাল ছয়টা ৫০ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছাবে।

এ ছাড়া ২৪ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার পথে ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ রওনা হয়ে পৌঁছাবে রাত আটটায়। একই দিন রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ‘চট্টগ্রাম স্পেশাল’ পরদিন ভোর চারটায় চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার জয়নাল আবেদীন বিশেষ ট্রেনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ ছুটিতে টিকিট ও ভ্রমণের তীব্র চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই এসব ট্রেন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যাত্রী পরিবহনের এই সুবিধা সড়কপথের ওপর চাপ কমাবে।

বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আন্তঃনগর কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস নিয়মিত চলাচল করছে। নতুন বিশেষ ট্রেনগুলো যুক্ত হওয়ায় বহরে পরিবহন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

ছুটিতে বিপুল সমাগমকে স্বস্তিদায়ক করতে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং আতিথেয়তার মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান জানান, আসন্ন উৎসব ও পর্যটন মৌসুম ঘিরে প্রশাসনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি চলছে। সৈকতসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে আগত ভ্রমণপিপাসুদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন সেবা দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ অন্যান্য সেবামূলক সংস্থার সাথে নিবিড় সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দিনাজপুর টিভি ডট কম।