অক্টোবর ১১, ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
শারদীয় দুর্গাপূজা ও টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারে বিপুল পরিমাণ পর্যটকের সমাগম হবে বলে আশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা. ইতোমধ্যে শহরের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে. পর্যটকের এই বাড়তি চাপ সুচারুভাবে সামলাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ.
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০ ও ২১ অক্টোবরের ছুটির সঙ্গে ২২ অক্টোবর সাধারণ ছুটি ঘোষণা এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলে কর্মজীবীরা টানা পাঁচ দিনের অবকাশের সুযোগ পেয়েছেন. এই দীর্ঘ ছুটি কাজে লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা আগাম কক্ষ বুকিং করে কক্সবাজার ভ্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন.
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, এবারের ছুটিতে পর্যটকদের সাড়া বেশ ভালো পাওয়া যাচ্ছে. তারকা ও মাঝারি মানের হোটেল-মোটেলের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং সম্পন্ন হয়েছে. কিছু রিসোর্ট ও কটেজে অল্প কিছু কক্ষ খালি থাকলেও শিগগিরই সেগুলোও বুকিং হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন.
বিলাসবহুল তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস লিমিটেডের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, পাঁচ দিনের এই ছুটিতে তাদের হোটেলের প্রায় ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে এবং আগত পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন. ছুটি পুরোপুরি শুরুর আগেই হোটেলের শতভাগ কক্ষ বুকিং হয়ে যাবে বলে তাদের ধারণা.
পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও পরিবহন ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার শহর ও এর আশপাশে পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাউস ও কটেজে মোট প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার পর্যটকের রাতযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে. তবে গত বছরগুলোতে টানা ছুটিতে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপে অনেককে থাকার জায়গার অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল এবং গাড়ির ভেতরেও রাত কাটাতে হয়েছিল.
পরিবহন খাতের ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে ৯০ থেকে ৯৫টি পরিবহন কোম্পানির প্রায় আট থেকে নয় হাজার বাস ঢাকা ও অন্যান্য জেলা থেকে কক্সবাজারে চলাচল করছে. ইতোমধ্যে এসব বাসের বেশির ভাগের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে. একইসঙ্গে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের ট্রেনের সব আসনও সম্পূর্ণ বুকিং হয়ে গেছে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে.
পর্যটকদের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজমল হোসেন জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে. জেলা পুলিশের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল মাঠে থাকবে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে.
এদিকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, চলতি পর্যটন মৌসুমে এবারের ছুটিতে কক্সবাজারে সর্বোচ্চসংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন. পর্যটকদের নিরপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমুদ্রসৈকতে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে. পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন এবং সঠিক সেবা পান, তা নিশ্চিত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে সক্রিয় দায়িত্ব পালন করবেন.

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন