অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণ এবং ভ্রমণকারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করার পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত থাকলেও ওই দিন থেকে পর্যটকবাহী নৌযান বা জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না।
অনুমোদন ও অভ্যন্তরীণ দাপ্তরিক কাজ পুরোপুরি শেষ হতে আরও কয়েক দিন বাড়তি সময় লাগবে। তবে নৌযান চলাচল সাময়িক পিছিয়ে গেলেও ভ্রমণপ্রত্যাশী পর্যটকেরা নির্ধারিত ১ নভেম্বর থেকেই দ্বীপে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এ টি এম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক যৌথ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভা শেষে নৌযান পরিচালনা সংশ্লিষ্ট ও প্রশাসনিক দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।
জাহাজ মালিকদের বাণিজ্যিক সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানান, প্রশাসনিক ছাড়পত্র ও জাহাজ চলাচলের আনুষঙ্গিক সব প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আগামী ৩ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়ার উপকূলীয় এলাকা পাটুয়ারটেকে অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্ট এবং সুগন্ধা পয়েন্টের দি সি প্রিন্সেস হোটেলে পৃথক অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটে পর্যটন এলাকার অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটকদের সার্বিক অগ্নি ও নাগরিক নিরাপত্তা জোরদার করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই জরুরি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
সভা শেষে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী জানান, দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার নির্ধারিত সমস্ত শর্তাবলি শতভাগ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ও নিশ্চয়তা প্রাপ্তির ওপর ভিত্তি করেই জাহাজ চলাচলের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকার যে নীতিমালা ও বিধিনিষেধ নির্ধারণ করেছে, তার যেন কোনো ধরনের ব্যত্যয় না ঘটে তা পর্যবেক্ষণে ট্যুরিজম বোর্ডসহ অন্যান্য সরকারি সংস্থা মাঠে থেকে একযোগে কাজ করছে।
নৌযানের অনুমোদনের হালনাগাদ পরিস্থিতি তুলে ধরে স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানান, চলতি পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিন সমুদ্র রুটে চলাচলের জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো থেকে ইতোমধ্যে তিনটি জাহাজের চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর বাইরে আরও সাতটি যাত্রীবাহী জাহাজের অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন করা হয়েছে। যে তিনটি জাহাজ ইতোমধ্যে অনুমোদন লাভ করেছে, সেগুলোকে যাত্রী পরিবহনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চলতি বছর থেকে সেন্টমার্টিন রুটে যেকোনো পর্যটকবাহী জাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র গ্রহণের নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত তিনটি জাহাজ পরিবেশ অধিদপ্তরের সেই আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র পেলেও বন্দর ও নৌ প্রশাসনের আরও কিছু অভ্যন্তরীণ দাপ্তরিক নথি নিষ্পত্তির কাজ বাকি রয়েছে। এসব অবশিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ করতে ৩ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগবে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নীতি-নির্ধারণী সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার কার্যালয়ের পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলা, জেলা ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবদূত মজুমদার, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন