বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬,

হঠাৎ রক্তলাল ভারতের ছত্তিশগড়ের আকাশ, কারণ কী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম

হঠাৎ রক্তলাল ভারতের ছত্তিশগড়ের আকাশ, কারণ কী

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য ছত্তিশগড়ের আকাশে হঠাৎ রক্তলাল আভা ছড়িয়ে পড়ার এক বিরল ও অস্বাভাবিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়া ও কিরান্দুলসহ বেশ কয়েকটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওপর আকাশ হঠাৎ গাঢ় রক্তলাল বর্ণ ধারণ করে। অস্বাভাবিক এই প্রাকৃতিক দৃশ্য মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। সাধারণ নাগরিকদের অনেকে একে কোনো রহস্যময় বা ভৌতিক ঘটনা মনে করলেও আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা এর পেছনে স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন।

বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবই এই বিরল রঙের প্রধান কারণ।

ঘূর্ণিঝড়টির প্রবল ঘূর্ণিবাতাস ওই অঞ্চলের মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণে ধুলাবালি এবং লোহাসমৃদ্ধ খনিজ লাল মাটি বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে উড়িয়ে নিয়ে ছড়িয়ে দেয়। বায়ুমণ্ডলে ভাসমান এসব ভারী কণার মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো প্রতিসরিত হওয়ার ফলেই গোটা আকাশজুড়ে রক্তলাল আভা তৈরি হয়।

বিশ্বের আবহাওয়া ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত এর আগেও নথিভুক্ত হয়েছে।

অতীতে অস্ট্রেলিয়ায় আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় নারেলের সময়ও উপকূলীয় অঞ্চলে ঠিক একই ধরনের রক্তলাল আকাশ দেখা গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের বৈজ্ঞানিক নথি অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলের মাটিতে প্রচুর পরিমাণে লোহার আকরিক থাকায় তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের সময় বাতাসে ভাসমান ধুলার রঙ লালচে আকার ধারণ করে। বাতাসে বিপুল পরিমাণ লোহার কণা ছড়িয়ে পড়লে গোটা পরিবেশ মঙ্গল গ্রহের ভূপৃষ্ঠের মতো অদ্ভুত লাল রূপ নেয়।

ছত্তিশগড়ের এই রক্তিম আকাশ দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কৌতূহলোদ্দীপক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নেটিজেনরা। কেউ কেউ এই দৃশ্যের সাথে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় কল্পবিজ্ঞান সিরিজ ‍‍`স্ট্রেঞ্জার থিংস‍‍`-এর মিল খুঁজে পেয়েছেন। আবার কেউ একে হরর সিনেমা ‍‍`ইভিল ডেড‍‍`-এর রোমহর্ষক দৃশ্যের সাথে তুলনা করে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের মূল তাণ্ডব চলে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশে।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে সরাসরি আঘাত হানে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। আঘাত হানার সময় উপকূলে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ ঝড়টিকে ‍‍`অতি তীব্র‍‍` ক্যাটাগরির সাইক্লোন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

ঝড়ের তীব্রতায় অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় জনপদে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে, ব্যাপক আকারে বিনষ্ট হয়েছে মাঠের ফসল ও সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি। একই সাথে সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ সম্পূর্ণ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলীয় সড়ক যোগাযোগ ও সার্বিক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে গাছ ও দেয়াল চাপা পড়াসহ বিভিন্ন পৃথক দুর্ঘটনায় অন্ধ্রপ্রদেশে এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন মানুষের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।