বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬,

গাজার শিশুদের চিকিৎসায় হামজা চৌধুরীর এক লাখ পাউন্ড তহবিল সংগ্রহ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম

গাজার শিশুদের চিকিৎসায় হামজা চৌধুরীর এক লাখ পাউন্ড তহবিল সংগ্রহ

ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার যুদ্ধাহত ও জরুরি চিকিৎসাবঞ্চিত শিশুদের জীবন রক্ষায় এক লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশি মুদ্রায় সংগৃহীত এই তহবিলের পরিমাণ প্রায় এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক অলাভজনক সংগঠন নজুম স্পোর্টসের সাথে যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি বিশেষ দাতব্য অনুষ্ঠান ও নিলামের মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়। শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে এই মানবিক উদ্যোগের সাফল্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

গত রোববার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে এই বর্ণাঢ্য দাতব্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

২০২০ সালে যাত্রা শুরু করা নজুম স্পোর্টস বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে মুসলিম ক্রীড়াবিদদের পেশাগত অধিকার, সামাজিক সহায়তা ও ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করে থাকে। অনুষ্ঠানে হামজা চৌধুরীর ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা পর্বের পাশাপাশি মুসলিম অ্যাথলেটদের স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক জার্সি, পদক ও নানা স্মারকের একটি উন্মুক্ত দাতব্য নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।

নিলামের মূল আকর্ষণ ছিল ব্রিটিশ ক্লাব ফুটবলে লেস্টার সিটির হয়ে হামজা চৌধুরীর অর্জিত ঐতিহাসিক স্মারক ও ট্রফিগুলো।

এর মধ্যে হামজার ব্যক্তিগত এফএ কাপজয়ী জার্সিটি সাত হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়। অন্যদিকে তার ক্যারিয়ারের কমিউনিটি শিল্ডজয়ী পদকটি নিলামে তিন হাজার পাউন্ডে কিনে নেন সংগ্রহকারীরা। অনুষ্ঠানের প্রবেশ টিকিট বিক্রি এবং বিভিন্ন স্মারক নিলাম থেকে সংগৃহীত মোট অর্থের শতভাগ ‍‍`চিলড্রেন নট নাম্বারস‍‍` নামের একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থাকে সরাসরি হস্তান্তর করা হয়েছে।

ইনস্টাগ্রামে হামজা চৌধুরী স্পষ্ট করে জানান যে, সংগৃহীত এই তহবিলের প্রতিটি পয়সা গাজার মুমূর্ষু শিশুদের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় করা হবে।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে হামজা বলেন, সংগৃহীত এই অর্থ চিলড্রেন নট নাম্বারসের মহৎ উদ্যোগে সরাসরি ব্যয় করা হবে, যারা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার শিশুদের প্রাণ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। অবরুদ্ধ এলাকায় থাকা এসব শিশুর অনেকের জন্যই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে নিরাপদ কোনো দেশে স্থানান্তরিত হওয়া এবং বেঁচে থাকা এখন একমাত্র আশা। তিনি জানান, পুরো অর্থই গুরুতর আহত শিশুদের জরুরি স্থানান্তরের জটিল চিকিৎসা কার্যক্রমে কাজে লাগানো হবে।

তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রমে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এই তারকা মিডফিল্ডার আরও উল্লেখ করেন, স্বল্প সময়ের নোটিশে এই মহতী আয়োজনের মাধ্যমে যে অর্থ সংগৃহীত হয়েছে, সেজন্য তিনি সবার প্রতি বিনীত ও কৃতজ্ঞ। তবে গাজার শিশুদের ওপর চলা বিপুল মানবিক বিপর্যয় ও দুর্ভোগের বিপরীতে এটি নিতান্তই একটি ক্ষুদ্র অবদান। এখনো তাদের জন্য অনেক কিছু করার বাকি রয়েছে এবং প্রতিটি মানবিক প্রচেষ্টাই পরিবর্তন এনে দিতে সক্ষম।

দাতব্য উদ্যোগের পাশাপাশি মাঠের আন্তর্জাতিক ফুটবলেও ব্যস্ত সময় পার করছেন হামজা চৌধুরী।

লাল-সবুজ জার্সিতে বাংলাদেশ দলের হয়ে তার সামনে এখন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের বড় চ্যালেঞ্জ। দলীয় সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে তিনি মাঠে নামতে না পারলেও বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ টমাস ডুলি আশ্বস্ত করেছেন যে, আগামী ৯ নভেম্বর হামজা স্কোয়াডের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিতে পারেন। সব প্রস্তুতি ঠিক থাকলে আগামী ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের জার্সিতে হামজাকে মূল একাদশে পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।