বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬,

হঠাৎ বাংলাদেশের এমন ব্যাটিং ধস কেন?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

হঠাৎ বাংলাদেশের এমন ব্যাটিং ধস কেন?

ছবি: সংগৃহীত

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম দিনের চমৎকার ব্যাটিংয়ের পর দ্বিতীয় দিনের সকালের সেশনেই অপ্রত্যাশিত ব্যাটিং ধসের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ দল। ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে নতুন দিনের খেলা শুরু করে মাত্র ৫৯ রানের ব্যবধানে শেষ ৭টি উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়ে গেছে স্বাগতিকরা।

পরিকল্পিত আক্রমণেই গুঁড়িয়ে গেল স্বাগতিকদের প্রতিরোধ।

এই নাটকীয় ধসের পেছনে ব্যাটারদের ব্যর্থতার চেয়ে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের সুপরিকল্পিত বোলিং এবং মাঠের কন্ডিশন দ্রুত পড়ে ফেলার দক্ষতাই মূল ভূমিকা রেখেছে। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের প্রথম তিনটি উইকেটই তুলে নেন ক্যারিবীয় দুই স্পিনার। সেখান থেকেই মূলত টেস্টে ফেরার মোক্ষম সুযোগ পেয়ে যায় সফরকারীরা।

মিরপুরের উইকেট সময়ের সাথে সাথে স্পিন সহায়ক হয়ে উঠবে, এমন ধারণা ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল। তবে দ্বিতীয় দিনের সকালে প্রথম দিনের চেয়ে পিচে অনেক বেশি দৃশ্যমান টার্ন লক্ষ্য করা যায়। এই পরিবর্তনটি অনুধাবন করতে বিন্দুমাত্র দেরি করেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। তারা দিনের শুরু থেকেই স্পিন আক্রমণ পরিচালনা করে এবং নিখুঁত লাইন-লেংথে বল করে দ্রুত সাফল্য তুলে নেয়। দুই বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান ও অভিষিক্ত জশুয়া বিশপ পিচের আর্দ্রতা ও অতিরিক্ত টার্নকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন।

স্পিনের পাশাপাশি পেস আক্রমণের ধাক্কায় ধস আরও তীব্র হয়। ফাস্ট বোলার শামার জোসেফ সকালের হালকা আর্দ্রতা ও নতুন বলের সুবিধা নিয়ে পরপর দুই ওভারে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার পুরোপুরি এলোমেলো করে দেন।

এরপর শেষ দিকে পুনরায় দৃশ্যপটে আসেন ওয়ারিক্যান। তিনি টেল-এন্ডারদের ওপর অব্যাহত চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত উইকেট তুলে নেন। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বোলারদের সিঙ্গেল নিয়ে নন-স্ট্রাইকে যাওয়ার কোনো সুযোগই দেননি তিনি। ফলে উইকেটের অন্য প্রান্তে থাকা লিটন দাসকে দর্শক বানিয়ে রেখে বাকি ব্যাটারদের একের পর এক সাজঘরে পাঠায় ক্যারিবীয়রা।

নিচের সারির দু-একজন ব্যাটার শট নির্বাচনে কিছুটা ভুল করলেও সামগ্রিকভাবে এই উইকেটের বেশিরভাগই ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কার্যকর পরিকল্পনা এবং সুশৃঙ্খল বোলিংয়ের সরাসরি পুরস্কার।