বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬,

ইসরায়েল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েও গদিতে থাকার পথে নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

ইসরায়েল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েও গদিতে থাকার পথে নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি রাজনৈতিক জোট। তবে বিরোধী শিবিরও সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় আসন না পাওয়ায় দেশটিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে এবং সেই সুযোগে আপাতত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় বহাল থাকার পথে রয়েছেন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার পথ এখনো খোলা।

দেশটির প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট পেতে পারে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম ৬১টি আসনের জাদুকরী সংখ্যা স্পর্শ করতে পারেনি কোনো পক্ষই। এ নির্বাচনে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আরব দলগুলো ঐতিহাসিক সাফল্য দেখিয়ে ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে, যা ইসরায়েলের নির্বাচনী ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকার গঠনের আলোচনা যতদিন ঝুলন্ত থাকবে, ততদিন নেতানিয়াহুই তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মসনদে থাকবেন। এমনকি সমঝোতা না হলে আগামী বছর নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্তও তার এ পদে থাকার সুযোগ রয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণে কিছু আইনি সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হলেও ইরানের মতো বৈরী শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা ও কৌশলগত জাতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার তাদের থাকে। লিকুদ পার্টির সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু এরই মধ্যে একটি শক্তিশালী ডানপন্থি জাতীয় সরকার গঠনের জোর তাগিদ দিয়েছেন।

ভোটের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পরপরই সামরিক সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের ওপর আবারও সামরিক অভিযান চালানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, তেহরানের অস্তিত্ববাদী হুমকি চিরতরে নির্মূল করার এক ঐতিহাসিক সুযোগ এখন দুই মিত্র দেশের সামনে এসেছে। নির্বাচনের আগে ট্রাম্পও ইসরায়েলিদের প্রতি নেতানিয়াহুকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় রাখার প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং ফল প্রকাশের পর দাবি করেছেন যে তার সমর্থনই নেতানিয়াহুকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছে।

নেতানিয়াহুর এই অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট সতর্ক করেছেন যে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর পেছনে নতুন কোনো জনসমর্থন বা ম্যান্ডেট নেই। তিনি কেবল তত্ত্বাবধায়ক দায়িত্বে রয়েছেন উল্লেখ করে নিরাপত্তা বাহিনী ও সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, রাজনৈতিক স্বার্থে জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাকে যেন ব্যবহার করতে না দেওয়া হয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংঘাতকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর এটিই ছিল ইসরায়েলের প্রথম সাধারণ নির্বাচন, যাতে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। গাজায় দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ায় তেলআবিব বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কট্টর ডানপন্থিদের পাল্লাই এখনো ভারী রয়েছে।