বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬,
স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা

স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১২:৫০ পিএম

স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৮০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৫০ জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। লাইনচ্যুত হয়ে দুমড়েমুচড়ে গেছে ট্রেনের বগি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্যানুযায়ী, বুধবার সকাল ৯টার দিকে দেশটির তোলেদো প্রদেশের মোরা ও ওরগাজ শহরের মধ্যবর্তী সংযোগস্থলে এই রক্তক্ষয়ী বিপর্যয় ঘটে। দুর্ঘটনার সময় দুটি ট্রেনই রাজধানী মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সেভিয়ার অভিমুখে যাত্রা করছিল। যাত্রীবাহী ট্রেন দুটিতে সব মিলিয়ে মোট ৫৪৪ জন আরোহী ছিলেন। একই রেললাইনে চলাচলের সময় পেছনের ট্রেনটি দ্রুতগতিতে এসে সামনের ট্রেনটিকে সজোরে আঘাত করে। তীব্র ধাক্কায় মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনের দুটি বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।

ভয়াবহ সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ট্রেনের ৫৪ বছর বয়সী প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী জেসুস জেরোনিমো জানান, বিকট শব্দের পর ট্রেনের ভেতরের মানুষ ছিটকে বাইরে পড়ে যান। প্রথম ধাক্কায় তারা ভেবেছিলেন ট্রেনটি হয়তো কেবল লাইনচ্যুত হয়েছে। কিন্তু পরে জানালা ও দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে দেখতে পান তাদের ট্রেনের পুরো বগি একপাশে কাত হয়ে ধসে পড়েছে। চারপাশে অসংখ্য রক্তাক্ত ও আহত মানুষ কাতরাচ্ছিলেন এবং বহু যাত্রী তীব্র আতঙ্কে কাঁপছিলেন।

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল তৎপরতা শুরু করে। গুরুতর আহতদের দ্রুত জরুরি চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে দূরবর্তী বিশেষায়িত হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য আহত যাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য আশপাশের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

ইউরোপের দেশটিতে এর আগে ২০১৩ সালে এক বিধ্বংসী রেল দুর্ঘটনায় ৮০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। সে সময় একটি ট্রেন অতিরিক্ত বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লাইনচ্যুত হয়ে পাশের লাইনে পড়ে উল্টে যায় এবং বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য ট্রেনের সঙ্গে সেটির প্রচণ্ড সংঘর্ষ ঘটে। এক দশকের বেশি সময় পর নতুন এই মর্মান্তিক বিপর্যয় পুরো স্পেনের রেল নিরাপত্তা ও স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।