অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
স্পেন ও মিশরের মধ্যকার আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে গ্যালারি থেকে বৈষম্যমূলক স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় স্পেন ফুটবল ফেডারেশনকে (আরএফইএফ) আনুষ্ঠানিক শাস্তি প্রদান করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
এই শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে স্প্যানিশ ফেডারেশনকে নগদ ২০ হাজার ডলার আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে দেশটির পরবর্তী আন্তর্জাতিক হোম ম্যাচে স্টেডিয়ামের মোট দর্শক ধারণক্ষমতার অন্তত ১৫ শতাংশ আসন সম্পূর্ণ খালি রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ৩১ মার্চ স্পেনের কর্নেয়া শহরের আরসিডিই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্পেন ও মিশরের মধ্যকার প্রীতি ম্যাচটি গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়।
ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের গ্যালারির একটি নির্দিষ্ট অংশ থেকে ইসলামবিদ্বেষী ও চরম বৈষম্যমূলক স্লোগান শোনা যায়। দর্শকরা সমস্বরে বলতে থাকে, যে লাফাবে না সে মুসলিম। শুধু তাই নয়, খেলা শুরুর আগে মিশরের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময়ও গ্যালারি থেকে তীব্র দুয়োধ্বনি দেওয়া হয়। ম্যাচ রেফারি তাঁর অফিশিয়াল বিবরণীতে ঘটনাগুলো বিস্তারিত উল্লেখ করলে ফিফা আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
শাস্তি কার্যকরের নির্দিষ্ট সূচিও সামনে এসেছে।
স্পেন জাতীয় দলের পূর্বনির্ধারিত সূচি মোতাবেক, আগামী ১৫ নভেম্বর রাজধানী মাদ্রিদের মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। এই ম্যাচটিতেই ফিফার নির্দেশ অনুযায়ী স্টেডিয়ামের গ্যালারির ১৫ শতাংশ অংশ খালি রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ম্যাচ চলাকালে মাঠের ভেতরে বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের চেষ্টা চালায় আয়োজক কর্তৃপক্ষ।
স্টেডিয়ামের মাইক এবং জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে দর্শকদের উদ্দেশ্যে দফায় দফায় বৈষম্যবিরোধী বার্তা প্রদর্শন ও প্রচার করা হয়েছিল। তবে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও খেলার বিভিন্ন মুহূর্তে গ্যালারির একটি পক্ষ একই উসকানিমূলক আচরণ অব্যাহত রাখে। ঘটনার পর কাতালোনিয়া অঞ্চলের পুলিশ বাহিনী মোসোস দে`এসকোয়াদ্রা এবং বিদ্বেষমূলক অপরাধ সংক্রান্ত পাবলিক প্রসিকিউটরের দপ্তর পৃথক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
স্পেন জাতীয় দলের মুসলিম ফুটবলার লামিনে ইয়ামালের মাঠে উপস্থিতির কারণে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তুমুল প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
খেলা শেষে স্প্যানিশ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল এমন জঘন্য আচরণের তীব্র নিন্দা জানান। স্পেন ফুটবল ফেডারেশন, জাতীয় দলের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং দেশটির বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও সরকারি প্রতিষ্ঠান এ ঘটনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কঠোর সমালোচনা ব্যক্ত করেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন