শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬,
প্রাকৃতিক দুর্যোগ

ইস্তাম্বুলে ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় চারজনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম

ইস্তাম্বুলে ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় চারজনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কের বৃহত্তম জনবহুল শহর ইস্তাম্বুলে গত ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা আঘাত হেনেছে। বুধবার রাতের তীব্র বৃষ্টিপাতের পর সৃষ্ট এই ভয়াবহ প্লাবনে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন। বিপুল পানির স্রোতে পুরো শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত।

শুক্রবার তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফতচি এই দুর্যোগ ও প্রাণহানির বিস্তারিত পরিসংখ্যান গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, নাগরিকদের সার্বিক সুরক্ষা ও সহায়তায় রাষ্ট্রীয় সব বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্যমতে, ১৯৪২ সালের পর থেকে দেশটিতে এমন প্রলয়ংকরী রূপ আর কখনো দেখা যায়নি।

আবহাওয়া সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টায় শহরটিতে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, তা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের সম্মিলিত ঐতিহাসিক গড় বৃষ্টিপাতকেও ছাড়িয়ে গেছে। ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের এই মেগাসিটিতে তীব্র পানির তোড়ে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু ঘরবাড়ি, বাণিজ্যিক স্থাপনা, প্রধান সড়ক ও পার্ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

স্রোতে ভেসে যাওয়া বহু যানবাহন পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে নিচে এক জায়গায় জটলার মতো স্তূপ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

শুক্রবার ইস্তাম্বুলের সারিয়ার এলাকায় অবস্থিত একটি সেতুর নিচ থেকে ৬৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে দুর্যোগের কারণে আরো তিনজনের প্রাণহানির ঘটনা নিশ্চিত করেছিল সংশ্লিষ্ট দপ্তর। নিহতদের মধ্যে ঝড়ের তীব্রতায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়া এক কিশোরও রয়েছে।

মরদেহ উদ্ধারের আগে সারিয়ার এলাকার আয়াজাগায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিফতচি জানান, আকস্মিক প্লাবনের পর থেকে এখনো চারজন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।

তিনি আরো জানান, পানি জমে থাকা ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে মোট ৯ হাজার ৮৫০টি জরুরি অভিযোগ ও প্রতিবেদন জমা পড়েছে। জমা হওয়া ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে, আবর্জনা ও ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের কাছে জরুরি সাহায্য পৌঁছাতে স্থানীয় প্রশাসনের ৪৬ হাজার কর্মী সরাসরি মাঠে নিয়োজিত রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দুর্গত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন দেশটির পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুরাত কুরুম। নদী ও খালের কাছাকাছি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে পরিস্থিতির তীব্রতা বেড়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, এই অনিয়ন্ত্রিত ঝুঁকি কাটিয়ে ওঠা বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে জরুরি।

আগামী মাসে তুরস্কের আনতালিয়া শহরে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মুরাত কুরুম। ইস্তাম্বুলের এই আকস্মিক দুর্যোগের সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন আর কোনো সাধারণ বিকল্প নয়, বরং এটি টিকে থাকার অপরিহার্য শর্ত।