অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের একমাত্র উৎপাদনমুখী বড়পুকুরিয়া খনিতে কয়লা উত্তোলন পুনরায় শুরু হয়েছে। টানা দুই মাস চার দিন ভূগর্ভস্থ উৎপাদন বন্ধ থাকার পর খনির নতুন ফেইজ থেকে জ্বালানি খনিজটি তোলার কাজ সক্রিয় হলো। দীর্ঘ বিরতির পর খনিটিতে আবার পুরোদমে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
খনির ভূগর্ভস্থ নতুন এক হাজার ৪০৫ নম্বর ফেইজ থেকে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়। এরপর প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি শেষ করে শুক্রবার সকাল থেকে এই ফেইজ থেকে নিয়মিত কয়লা তোলার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) খান মো. জাফর সাদিক।
এর আগে গত ১২ আগস্ট খনির ভূগর্ভস্থ এক হাজার ৩০৯ নম্বর ফেইজের কয়লার মজুত পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ায় উত্তোলন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত হয়ে পড়েছিল। ওই ফেইজটি থেকে মোট চার লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা সফলভাবে উত্তোলন করা সম্ভব হয়েছিল।
কয়লা উত্তোলন বন্ধ থাকার এই দুই মাস ধরে পূর্ববর্তী এক হাজার ৩০৯ নম্বর ফেইজ থেকে ভারি যন্ত্রপাতি ও আধুনিক সরঞ্জামাদি সফলভাবে নতুন ফেইজে স্থানান্তর করা হয়। একই সাথে ভূগর্ভে নতুন ফেইজের সুরক্ষা কাঠামো তৈরি ও বিভিন্ন কারিগরি সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেন প্রকৌশলী ও খনি শ্রমিকেরা।
মহাব্যবস্থাপক খান মো. জাফর সাদিক জানান, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে নতুন এক হাজার ৪০৫ নম্বর ফেইজ থেকে প্রাথমিকভাবে কয়লা তোলা শুরু হলেও পুরোদমে উৎপাদনে যেতে কিছুটা সময় লাগবে। ভূগর্ভস্থ ভূপ্রকৃতি ও কারিগরি জটিলতার কারণে এটি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জটিল ফেইজ হিসেবে চিহ্নিত। প্রকৌশলীদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান এই নতুন ফেইজ থেকে প্রায় দুই লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে খনিটির সার্বিক মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে খনির প্রধান কোলইয়ার্ডে ছয় লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি কয়লা জমা রয়েছে। অথচ খনির নির্ধারিত কোলইয়ার্ডের মোট স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা মাত্র দুই লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। অতিরিক্ত মজুত থাকার পরও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে নতুন ফেইজ থেকে উত্তোলন সচল রাখা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন