শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬,

নাগরিক অধিকার সবার সমান: কুমিল্লায় সনাতনীদের সাথে কৃষিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম

নাগরিক অধিকার সবার সমান: কুমিল্লায় সনাতনীদের সাথে কৃষিমন্ত্রী

ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক না কেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের নাগরিক অধিকার সমান বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবাই এই দেশের সমান মর্যাদার নাগরিক। ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করে দেখা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে হীনম্মন্যতায় ভোগানোর কোনো সুযোগ এই ভূখণ্ডে নেই। সবাইকে সমান অধিকার ও আত্মমর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে বসবাস করতে হবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার ধর্মসাগর পাড়ে দলীয় কার্যালয়ে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, কুমিল্লা আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আপনারা এই দেশের ভূমিপুত্র, আমিও এই দেশের ভূমিপুত্র। আমার যতটুকু অধিকার আছে, আপনাদেরও রাষ্ট্রের ওপর ঠিক ততটুকু অধিকারই রয়েছে। নিজের অধিকার কাউকে দয়া হিসেবে কেউ দিয়ে দেয় না, সাংবিধানিক অধিকার নিজেদেরই সচেতনভাবে ভোগ করতে হয়।

ধর্মীয় বিভাজনের কৃত্রিম দেয়াল ভেঙে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মানবিক ভ্রাতৃত্ব জোরদারের তাগিদ দেন তিনি। মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, একজন মুসলমান আর একজন হিন্দুর রক্তের রঙে কোনো পার্থক্য নেই। বিপদের দিনে একে অন্যের পাশে এসে দাঁড়ানোই মানুষের আসল ধর্ম ও মনুষ্যত্ব। সমাজের একজন নাগরিক অন্যজনের প্রয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে জাতিগত বিভেদ দূর হবে এবং মানুষের মধ্যে সামাজিক বিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে।

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে সরকারের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো সব ধরনের প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং আগামীতেও রাষ্ট্রীয় এই পৃষ্ঠপোষকতা পুরোপুরি অব্যাহত থাকবে। তবে একটি আদর্শ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; সমাজের বিত্তবান ও সচ্ছল মানুষদেরও অসচ্ছল প্রতিবেশীদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।

পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রতিটি মণ্ডপের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে যৌথভাবে সমন্বয় করছে। সার্বিক নিরাপত্তা তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।

কেউ যেন অসৎ উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বা সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। প্রশাসনকে সহযোগিতার পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনো ঘটনায় নির্ধারিত জরুরি হেল্পলাইন বা যোগাযোগ নম্বরে তাৎক্ষণিক সংযোগ স্থাপনের তাগিদ দেন তিনি। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে বৈষম্যহীন, উন্নত, আত্মনির্ভরশীল ও নিরাপদ।

কুমিল্লা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক শ্যামল কৃষ্ণ সাহার সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব তালুকদার এবং সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায়। এছাড়া স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী নাগরিকেরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।