বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,

তুলা চাষ চরাঞ্চল ও খরাপ্রবণ জমিতে সম্প্রসারণের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

তুলা চাষ চরাঞ্চল ও খরাপ্রবণ জমিতে সম্প্রসারণের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

দেশের মূল খাদ্যশস্য উৎপাদন ব্যাহত না করে চরাঞ্চল, লবণাক্ত ও খরাপ্রবণ এলাকার মতো কম ফসলি জমিতে তুলা চাষ সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ব তুলা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর খামারবাড়ির তুলা ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের তুলার মান অত্যন্ত ভালো। খাদ্য উৎপাদন ঠিক রেখে কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি বাড়াতে সীমিত কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। যেসব এলাকায় প্রচলিত খাদ্যশস্যের ফলন তুলনামূলক কম, সেখানে তুলাসহ বিকল্প ফসলের আবাদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে তুলার উৎপাদন পাঁচ লাখ বেলে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে দ্রুত একটি মহাপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেন।

পরিকল্পনায় কোন কোন অঞ্চলে নতুন করে আবাদ বাড়বে, কতটুকু জমি ব্যবহৃত হবে এবং কতজন কৃষক সম্পৃক্ত থাকবেন—তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করার তাগিদ দেন তিনি। পাশাপাশি তুলা চাষের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে হলুদসহ অন্যান্য লাভজনক ফসল চাষের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন কৃষিমন্ত্রী। প্রাকৃতিকভাবে রঙিন তুলা উৎপাদনের সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, রঙিন তুলা উৎপাদন করা গেলে কাপড়ে কৃত্রিম রঙের ব্যবহার কমবে, যা পরিবেশবান্ধব পণ্যের বিশ্ববাজারে বড় অবদান রাখবে। এই গবেষণার অগ্রগতি ও বাণিজ্যিক উৎপাদনের বাস্তবতা সরেজমিনে পরিদর্শনের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

কৃষি গবেষণার জন্য সরকারের প্রয়োজনীয় অর্থায়নের আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, কম জমিতে বেশি উৎপাদন ও চাষের খরচ কমিয়ে কৃষিকে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে হবে। কাজের গতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারলে অর্থায়ন কোনো বাধা হবে না।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সলিম খান। এছাড়া সম্মানীয় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক এএসএম গোলাম হাফিজ।