রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জেনে নিন বাংলাদেশে তুলা চাষের সঠিক ও আধুনিক পদ্ধতি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১২, ২০২৫, ০১:০৪ পিএম

জেনে নিন বাংলাদেশে তুলা চাষের সঠিক ও আধুনিক পদ্ধতি

ছবি - সংগৃহীত

তুলা বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল, যা বস্ত্রশিল্পের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সঠিক পদ্ধতিতে চাষ করতে পারলে তুলা চাষ অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে। বাংলাদেশেও তুলা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। আসুন, জেনে নেওয়া যাক তুলা চাষের আধুনিক ও সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে।

তুলা চাষের জন্য উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া সবচেয়ে উপযোগী। সাধারণত দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটিতে তুলা ভালো জন্মে। যে জমিতে বৃষ্টির পানি জমে থাকে না এবং মাটির পিএইচ মান ৬.০ থেকে ৭.৫-এর মধ্যে থাকে, সেই জমি তুলা চাষের জন্য নির্বাচন করা উচিত। জমি তৈরির আগে বিঘাপ্রতি প্রায় ১ থেকে ১.৫ টন গোবর বা কম্পোস্ট সার ছিটিয়ে ৩-৪টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ভালোভাবে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে।

জাতভেদে তুলা বীজ বপনের উপযুক্ত সময় হলো আষাঢ় মাসের শুরু থেকে শ্রাবণ মাসের শেষ পর্যন্ত (জুন-জুলাই)। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী, উফশী জাতের জন্য বিঘাপ্রতি ১ কেজি এবং হাইব্রিড জাতের জন্য ৫০০-৬০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। বপনের আগে প্রতি কেজি বীজের সঙ্গে ৫ গ্রাম কীটনাশক (যেমন: গাউচু বা কনফিডর) মিশিয়ে শোধন করে নিলে চারা অবস্থায়  (পোকামাকড়)-এর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

ভালো ফলনের জন্য তুলা বীজ সারিতে বপন করা উচিত। সারি থেকে সারির দূরত্ব ৯০ সেন্টিমিটার (প্রায় ৩ ফুট) এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৪৫ সেন্টিমিটার (প্রায় ১.৫ ফুট) রাখতে হবে। সারির ওপর নির্দিষ্ট দূরত্বে আধা ইঞ্চি গভীরে ২-৩টি করে বীজ বপন করতে হয়। এতে নিড়ানি দিতে, সার প্রয়োগ করতে এবং পোকামাকড় দমন করতে সুবিধা হয়।

ভালো ফলন পেতে হলে তুলাক্ষেতে পরিমাণমতো জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা জরুরি। জৈব সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা ও পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সঠিক সময়ে, সঠিক পদ্ধতিতে তুলা চাষ করতে পারলে একজন কৃষক সহজেই লাভবান হতে পারেন এবং একই জমিতে তুলা তোলার পর বোরো ধান, আলু বা গমের মতো রবিশস্যও চাষ করতে পারেন।