অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
দেশের খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত না করে চরাঞ্চল, লবণাক্তপ্রবণ এলাকা, খরাপ্রবণ অঞ্চল ও অন্যান্য কম ফসলি জমিতে তুলা চাষ বাড়ানোর জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
তিনি বলেন, দেশের তুলার মান অত্যন্ত ভালো। তুলা উৎপাদন বাড়াতে হলে সুনির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
আজ বিশ্ব তুলা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ তুলা ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, দেশের সীমিত কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রেখে কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি বাড়াতে হবে। এজন্য যেসব এলাকায় প্রচলিত খাদ্যশস্য উৎপাদন তুলনামূলক কম, সেখানে তুলাসহ বিকল্প ফসলের আবাদ বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কম জমিতে বেশি উৎপাদন, উন্নতমানের পণ্য এবং উৎপাদন খরচ কমানোর মাধ্যমে কৃষিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প ও বিনিয়োগে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে প্রকল্পের উদ্দেশ্য হতে হবে কার্যকর ও লাভজনক উৎপাদন নিশ্চিত করা।
রঙিন তুলার সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিকভাবে রঙিন তুলা উৎপাদন করা গেলে কাপড় তৈরিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক রং ব্যবহারের প্রয়োজন কমবে। পরিবেশবান্ধব ও রাসায়নিকমুক্ত পণ্যের বিশ্ববাজারে রয়েছে বিপুল চাহিদা।
তুলা উৎপাদন সম্প্রসারণে একটি বিস্তারিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে তুলার উৎপাদন ৫ লাখ বেলে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর কত জমিতে আবাদ বাড়ানো হবে, কোন কোন এলাকায় নতুন করে তুলা চাষ সম্প্রসারণ করা হবে এবং কতজন কৃষককে সম্পৃক্ত করা হবে—এসব তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পনায় উল্লেখ থাকতে হবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সলিম খান এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক এএসএম গোলাম হাফিজ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন