শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬,

পতাকা ওড়াও কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে আটক হলেন ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

পতাকা ওড়াও কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে আটক হলেন ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের পর এবার ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিল্লির ঐতিহাসিক সেন্ট্রাল পার্কে পতাকা উত্তোলনের উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁকে আটক করে পুলিশ সদস্যরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, মান্ডি হাউস সার্কেল এলাকা থেকে জাতীয় পতাকা হাতে একদল নেতাকর্মীসহ মিছিল নিয়ে সেন্ট্রাল পার্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন নেহা। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিছিলটির গতিরোধ করে এবং তাঁকে সরাসরি আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নেয়। এর প্রায় এক ঘণ্টা আগে একই কর্মসূচিকে ঘিরে নিজ বাসভবন থেকে দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপককেও আটক করে দিল্লি পুলিশ।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বেশ কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন ককরোচ জনতা পার্টির তরুণ সমর্থকরা।

আন্দোলনকারীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারকে অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিতেই ভোটার তালিকা থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিপুলসংখ্যক সাধারণ নাগরিকের নাম বাদ দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যটির প্রায় ৭০ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে কেটে ফেলা হয়েছিল বলে দলটির দাবি। তবে বিতর্কিত নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই বাদ পড়া সেসব নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ তোলেন।

শুক্রবার সেন্ট্রাল পার্কে পতাকা উত্তোলনের এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল মূলত দলের দুই শীর্ষ সহপ্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে।

এর আগে রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তরে গিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে গেলে পুলিশ এই দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তীতে তাঁদের রিমান্ডেও নেওয়া হয়।

ঘটনার ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিল গত ১০ অক্টোবর। সেদিন যন্তরমন্তরে প্রকাশ্য সমাবেশের ডাক দিয়েছিল সংগঠনটি। কিন্তু পুলিশ সেখানে সাধারণ মানুষকে প্রবেশ করতে দেয়নি এবং সমাবেশস্থল থেকে অভিজিৎ দীপক, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আটক করা হয়। পরদিন তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হলেও ১৩ অক্টোবর ফের যন্তরমন্তরে গিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন আশুতোষ ও সৌরভ। ওই দিনই তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সহপ্রতিষ্ঠাতাদের গ্রেপ্তারের তীব্র প্রতিবাদেই শুক্রবার সেন্ট্রাল পার্কে নতুন করে জমায়েতের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। কিন্তু কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই রাজপথ থেকে একে একে দলটির শীর্ষ প্রতিষ্ঠাতা ও ছাত্রনেত্রীকে নিজেদের হেফাজতে নিল দিল্লি পুলিশ।