শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬,

যুব উন্নয়নের নিয়োগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করল এসআরবি

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

যুব উন্নয়নের নিয়োগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করল এসআরবি

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারসহ সংঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান বাহিনীটির এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন। তিনি নিশ্চিত করেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক ও সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে এই চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম (৩৩), এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০) এবং এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর (৩৮)। এছাড়া এই চক্রের সাথে যুক্ত থাকা দুই চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম (২৩) ও মো. হাসিনুর রহমান সুজনকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক জানান, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি সামনে আসার পরপরই বিশেষ ছায়াতদন্তে নামে গোয়েন্দারা। দীর্ঘ অনুসন্ধানে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সন্ধান মেলে। এর ভিত্তিতে গত বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার (১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর) রাজধানীর মতিঝিল, উত্তরখান, মিরপুর, সাভার ও মোহাম্মদপুর এলাকায় দফায় দফায় অভিযান চালানো হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রশ্নপত্রের সম্ভাব্য উৎস ও বণ্টনের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, অভিযানের প্রথম দফায় বুধবার মতিঝিল এলাকা থেকে রুবেল ইসলাম, মো. মফিজুল ইসলাম এবং মো. হাসানুর রহমান সুজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে উত্তরখান ও মিরপুর এলাকা থেকে এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী আসাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে তাদের মুঠোফোনের বার্তা আদান-প্রদানের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদের নাম বেরিয়ে আসে।

বৃহস্পতিবার সাভার এলাকায় অভিযান চালিয়ে নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৪ এর একটি দল। নূর মোহাম্মদের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে শুক্রবার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে চক্রের আরেক সদস্য কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৩ এর একটি দল।

প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার নিখুঁত সময়রেখা তুলে ধরেন এসআরবি অধিনায়ক।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, উদ্ধারকৃত মুঠোফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে গ্রেপ্তার নূর মোহাম্মদ একটি গোপন সূত্র থেকে প্রশ্নপত্রের একটি অস্পষ্ট ছবি পান। এরপর সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাকে প্রশ্নপত্রের সম্পূর্ণ স্পষ্ট ছবি পাঠান। ছবি পাওয়ার পরপরই নূর মোহাম্মদ দ্রুত সেটির লিখিত সমাধান তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলকে সরবরাহ করেন। পরবর্তীতে সেই প্রশ্ন ও সমাধান চক্রের অন্যান্য সদস্য ও তাদের চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, অপরাধ ঢাকতে চক্রটি হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয়ের প্রোফাইল ব্যবহার করে এই কার্যক্রম পরিচালনা করত। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রাথমিক মূল উৎসটি এখনও চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করা যায়নি এবং এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।