শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬,
ইসলাম ও জীবন

জুমার দিনে মারা গেলে জান্নাত লাভ সহজ হয় কি না জানালেন আলেমগণ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

জুমার দিনে মারা গেলে জান্নাত লাভ সহজ হয় কি না জানালেন আলেমগণ

জুমার দিনে মৃত্যু হলে জান্নাত লাভ সহজ হয় কি না—ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে বহু বছর ধরে প্রচলিত এমন ধারণার সুস্পষ্ট বিশ্লেষণ ও সঠিক ব্যাখ্যা উঠে এসেছে কুরআন ও সহিহ হাদিসের নির্দেশনায়।

ইসলাম ধর্মে জুমাবারকে সপ্তাহের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যাকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবেও গণ্য করা হয়। এই পবিত্র দিনটিতেই মহান আল্লাহ হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছিলেন, এই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল এবং এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে দুনিয়াতে পাঠানো হয়। এমনকি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার দিনটিও হবে এই জুমাবার।

সহিহ মুসলিমের এক হাজার ৮৫০ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমাবার।

পবিত্র কুরআনের সুরা জুমার নয় নম্বর আয়াতে জুমার দিনের নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হতে হবে এবং সব ধরনের বেচাকেনা বর্জন করতে হবে, যা মুমিনদের জন্য সর্বোত্তম।

এজন্য জুমার দিনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া, সুগন্ধি ব্যবহার ও মসজিদে উপস্থিতির ব্যাপারে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। সহিহ বুখারির ৮৬৪ নম্বর হাদিসে উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে যথাসম্ভব পবিত্রতা অর্জন করে, তেল বা সুগন্ধি মেখে মসজিদে যায়, দু‍‍`জনের মাঝে ফাঁক না করে সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ আদায় করে এবং খুতবার সময় নীরব থাকে, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। এছাড়া সহিহ মুসলিমের এক হাজার ৮৪৬ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, জুমার দিনে এমন একটি সংক্ষিপ্ত বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে, যে সময় কোনো মুসলিম বান্দা আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণ চাইলে তা সরাসরি কবুল করা হয়।

জুমার দিনে কারও মৃত্যু হলে সাধারণ সমাজে ধারণা করা হয় যে মৃত ব্যক্তি সরাসরি জান্নাত লাভ করবেন কিংবা কবরের আজাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকবেন।

হাদিস পর্যালোচনায় দেখা যায়, সুনান আত তিরমিজির এক হাজার ৭৪ নম্বর এবং মেশকাতের এক হাজার ৩৬৭ নম্বর হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) বর্ণনা করেছেন যে কোনো মুসলিম ব্যক্তি জুমাবারে বা জুমার রাতে ইন্তেকাল করলে আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের ফিতনা অর্থাৎ কবরের পরীক্ষা ও সওয়াল-জবাবের কঠিন চাপ থেকে রক্ষা করবেন।

তবে জুমার দিনে মারা গেলেই নিশ্চিত জান্নাত পাওয়া যাবে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা কুরআন বা হাদিসে সরাসরি দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহসহ অধিকাংশ আলেমের অভিমত হলো, জুমাবারে কোনো মুমিন বান্দা মৃত্যুবরণ করলে তিনি কবরের কঠিন ফিতনা থেকে নিরাপত্তা পাবেন—এটুকু হাদিস দ্বারা সন্দেহাতীতভাবে স্বীকৃত। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তিনি কোনো বিচার ছাড়াই সরাসরি জান্নাতবাসী হয়ে যাবেন। তবে পরকালের প্রথম স্তর কবরের হিসাব সহজ হয়ে গেলে পরবর্তী ধাপগুলোও সহজ হওয়ার শক্তিশালী প্রত্যাশা তৈরি হয়।