অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে সার্কিট হাউসে ফিরেছেন। সেখানে ফিরেই শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় ভার্চুয়ালি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেছেন তিনি। তবে এই পদ্ধতিতে এবং বার্তা পাঠিয়ে সভা আহ্বানের প্রশাসনিক বৈধতা ও নিয়ম নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন সিন্ডিকেটের একাধিক দায়িত্বশীল সদস্য।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চমেক হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে সার্কিট হাউসে ওঠেন উপাচার্য।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনে দীর্ঘ প্রায় ৩০ ঘণ্টা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দ্বারা অবরুদ্ধ থাকার পর তাঁকে উদ্ধার করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। উদ্ধার করার পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
উপাচার্যের ডাকা সভা নিয়ে সিন্ডিকেট সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান জানান, উপাচার্য শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় এই ভার্চুয়াল সভা ডেকেছেন। তিনি ছুটিতে থাকায় সভায় অংশ নিতে পারবেন কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এদিকে সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন জানান, উপাচার্য তাঁকে সরাসরি মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে সভার বিষয়টি অবহিত করেছেন।
নিয়মবহির্ভূত পদক্ষেপের অভিযোগ তোলেন ডিন।
অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন বলেন, এভাবে ব্যক্তিগত মেসেজ পাঠিয়ে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা যায় কি না বা এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক বিধিমালার মধ্যে পড়ে কি না, তা স্পষ্ট নয়। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরে সভার চিঠি সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার রীতি রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে এই অচলাবস্থার সূত্রপাত উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে প্রতিষ্ঠানটির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে `কমপ্লিট শাটডাউন` কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তাঁরা উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি শুরু করলে ক্লাস ও পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
এই চলমান আন্দোলনের মধ্যেই গত সোমবার সকাল নয়টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম।
তিনি ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে জোরপূর্বক নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাঁকে দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন