অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ০১:১২ পিএম
ভারতের গুজরাটে গরু জবাই ও মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় তিন মুসলিম ব্যক্তিকে কঠোর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় হিন্দু ধর্মগ্রন্থ বেদ ও মনুস্মৃতির বিভিন্ন শ্লোক উদ্ধৃত করে বিচারক গরুর ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।
রায়ে প্রাচীন হিন্দু ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি টানা হয়।
গত ২৬ অক্টোবর গুজরাটের গান্ধীনগর জেলার কালোলের একটি দায়রা আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন ওয়াসিম কুরেশি, মহম্মদ রফিক কুরেশি এবং আসফাক বেহলিম। আদালত তাঁদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। তবে জরিমানার পরিমাণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে তথ্যের ভিন্নতা দেখা গেছে; কয়েকটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম প্রত্যেকের তিন লাখ রুপি জরিমানার কথা জানালেও অন্য কিছু প্রতিবেদনে জরিমানার পরিমাণ দুই লাখ রুপি উল্লেখ করা হয়েছে।
কালোল আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক বি আর রাজপুত গুজরাট প্রাণী সংরক্ষণ (সংশোধনী) আইন এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইনের আওতায় এই সাজা দেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট গান্ধীনগর জেলার জামলা গ্রামে লালাভাই সেনমা নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালায় স্থানীয় পুলিশ। সেখান থেকে ওয়াসিম, মহম্মদ রফিক ও আসফাককে আটক করার পাশাপাশি আনুমানিক ৫৫ হাজার রুপি মূল্যের ২৭৭ কেজি মাংস উদ্ধার করা হয়, যা গরুর মাংস বলে দাবি করে প্রসিকিউশন। অভিযানের সময় জবাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও মাংস পরিবহনের জন্য রাখা একটি যানবাহনও জব্দ করা হয়। পুলিশি তদন্তে দাবি করা হয়, আসামিরা উদ্ধার করা ওই মাংস গুলাম মইন কুরেশি নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন। ওই ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্য ও হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যের অবতারণা করে গরুকে বিশ্বের মাতা হিসেবে বর্ণনা করেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়, গরু রক্ষা সরাসরি ধর্ম ও মানবীয় করুণার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গরুর ধর্মীয় সংবেদনশীলতা জানা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা মাংস বিক্রির চেষ্টা করেছেন এবং এমন অপরাধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে ভবিষ্যতে এই প্রাণীর অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে বলে মন্তব্য করেন বিচারক।
পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটে গরু জবাইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি বিধান রয়েছে। রাজ্য সরকার ২০১৭ সালে তাদের গরু সংরক্ষণ আইনে বিশেষ সংশোধনী এনে এ সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের কঠোর বিধান যুক্ত করেছিল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন