বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬,
ব্যালন ডি’অর ইতিহাস

ব্যালন ডি’অর অব অলটাইম জিতলেন রোনালদো, পেছনে পড়লেন মেসি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১১:০৮ এএম

ব্যালন ডি’অর অব অলটাইম জিতলেন রোনালদো, পেছনে পড়লেন মেসি

ছবি: সংগৃহীত

ব্যালন ডি’অরের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের ভোটে লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে ব্যালন ডি’অর অব অলটাইম বা ইতিহাসের সেরা ব্যালন ডি’অর মৌসুমের স্বীকৃতি জিতে নিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা এবং ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবলের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ বৈশ্বিক ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়।

২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলা রোনালদোর পারফরম্যান্স এবার বিশ্বসেরার মুকুট পেল।

ব্যালন ডি’অরের সাত দশকের ইতিহাসে কোন মৌসুমটি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে সবচেয়ে সেরা ছিল, তা নির্ধারণ করতে গত ১ অক্টোবর থেকে অনলাইনে এই উন্মুক্ত ভোট নেওয়া শুরু হয়। প্রতিটি ভোটের জন্য ১ ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং সমর্থকরা চাইলে যত খুশি তত ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। গত মঙ্গলবার রাতে আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ব্যালন ডি’অরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে আয়োজকরা আগেই জানিয়েছিলেন যে এই অর্জনের জন্য কোনো ট্রফি বা স্মারক দেওয়া হবে না।

ইতিহাসে অন্তত দুবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন এমন ১০ জন কিংবদন্তিকে নিয়ে এই ভোটের তালিকা সাজানো হয়েছিল। ভোটের মোট হিসাবে রোনালদো ৪৪৬ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে অবস্থান করেন, যেখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি পান ২৮১ পয়েন্ট। এই ভোটাভুটিতে মেসিকে হারিয়ে রোনালদোর ২০০৮ সালের জয়টি সেরা নির্বাচিত হয় এবং ২০১২ সালে রেকর্ড গোলের বছরে মেসির জেতা ব্যালন ডি’অর মৌসুম দ্বিতীয় স্থান লাভ করে। তালিকায় ব্যালন ডি’অরজয়ের শীর্ষ ১২টি ঘটনাই ভাগাভাগি করে নিয়েছেন মেসি ও রোনালদো। ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর ব্যালন ডি’অর প্রাপ্তি স্থান পেয়েছে তালিকার ১৩তম অবস্থানে।

২০০৭-০৮ মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে রোনালদো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ডাবল ট্রফি ঘরে তুলেছিলেন। সেবার সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিনি ৪৯ ম্যাচে ৪২ গোল করেছিলেন। অন্যদিকে ২০১১-১২ মৌসুমে লিওনেল মেসি ছিলেন অনন্য উচ্চতায়; এক ক্যালেন্ডার বছরে গার্ড মুলারের ৮৫ গোলের দীর্ঘ রেকর্ড ভেঙে ৬৯ ম্যাচে ৯১ গোল করার অকল্পনীয় ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি বার্সেলোনার হয়ে জিতেছিলেন স্প্যানিশ কোপা দেল রে ও সুপার কাপ, যার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে তিনি ক্যারিয়ারের চতুর্থ ব্যালন ডি’অর লাভ করেন।

ভোটাভুটির এই ঐতিহাসিক তালিকায় যে ১০ জন একাধিকবার ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকাকে রাখা হয়েছিল, তারা হলেন আটবারের বিজয়ী লিওনেল মেসি, পাঁচবারের বিজয়ী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, তিনবার করে জেতা ইয়োহান ক্রুইফ, মিশেল প্লাতিনি ও মার্কো ফন বাস্তেন, তিনবারের বিজয়ী ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার এবং দুবার করে জেতা রোনালদো নাজারিও, কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে, কেভিন কিগান ও আলফ্রেড ডি স্টেফানো।

এদিকে ভোটের চলাকালীন সামাজিক মাধ্যমে কারচুপির অভিযোগ উঠলেও তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ। তারা বিশদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে জানায়, প্ল্যাটফর্মে মাত্র ৫ হাজার ৯ জন ব্যবহারকারী একের অধিক ভোট প্রদান করেছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ৪৪ জন ব্যবহারকারী ১০ থেকে ২৬টি পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন, ৩০০ জন দিয়েছেন ৫ থেকে ৯টি ভোট এবং ৪ হাজার ৬৬৫ জন ব্যবহারকারী ২ থেকে ৪টি ভোট দিয়েছেন। ফলে ভোটপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে তোলা বিভ্রান্তি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।