অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
বিশ্ব ফুটবলের দুই পরম বন্ধু ও মহাতারকার জন্য একই দিনে রচিত হলো সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকের এক চরম হতাশার অধ্যায়। স্পেনের রাজকীয় সম্মাননা গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে ইন্টার মায়ামির জার্সিতে কোনো জাদুকরী প্রভাব ফেলতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। নিউইয়র্ক রেড বুলসের কাছে দুই শূন্য গোলে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁর দলকে। অন্যদিকে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ব্রাজিলেইরো সিরি এ লিগে সান্তোসের হয়ে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সাথে মুখ ঢেকে কথা বলার অপরাধে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে যেতে হয়েছে নেইমারকে।
স্প্যানিশ রাজপরিবারের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ শেষে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উড়াল দিয়ে ক্লাবের স্কোয়াডে যোগ দিয়েছিলেন মেসি।
কিন্তু প্রতিপক্ষের মাঠ স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড স্টেডিয়ামে নিউইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি দলের ভাগ্য বদলাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন। খেলার ৫৫তম মিনিটে তরুণ রিকুয়েলমে ফিলিপির বদলি হিসেবে ৫৬তম মিনিটে মাঠে নামেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। যদিও ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছিল ফ্লোরিডার ক্লাবটি। খেলার সপ্তম মিনিটে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোর মারাত্মক আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ইন্টার মায়ামি। এরপর নির্ধারিত সময় শেষে অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে এমিল ফোর্সবার্গের নিখুঁত লক্ষ্যভেদে মায়ামিকে ২-০ গোলে স্তব্ধ করে দেয় রেড বুলস।
মেজর লিগ সকার বা এমএলএসের চলতি আসরে সর্বোচ্চ ২৫টি গোল করে ব্যক্তিগত তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন মেসি।
এর পাশাপাশি যৌথভাবে লিগের সর্বোচ্চ ১৫টি গোলে সরাসরি অবদান রয়েছে তাঁর নামের পাশে। কিন্তু রেড বুলসের শক্ত রক্ষণব্যূহের সামনে মায়ামি অধিনায়কের কোনো প্রচেষ্টাই সফলতার মুখ দেখেনি। এই হারের মাধ্যমে রেড বুলসের বিপক্ষে টানা চার ম্যাচের আধিপত্যের অবসান ঘটল কিলি গঞ্জালেসের শিষ্যদের। আগের চার দেখায় তিনটিতে জয় ও একটিতে ড্র করেছিল মায়ামি, যেখানে তারা প্রতিপক্ষের জালে ১৭ গোল জড়িয়ে হজম করেছিল মাত্র ছয়টি। এমনকি চলতি মাসেই নিজেদের খেলা সবশেষ তিন ম্যাচে নয়টি গোল করে টানা জয় তুলে নেওয়া মায়ামি এদিন পুরো ৯০ মিনিটে একটি গোলেরও দেখা পায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই বেদনার রাতে ব্রাজিলের ঘরের মাঠেও মঞ্চস্থ হয় নজিরবিহীন নাটকীয়তা। ভিলা বেলমিরোয় বাহিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠের ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র নিয়ে কোনোমতে মান বাঁচিয়েছে সান্তোস। খেলার ৩৯তম মিনিটে বাহিয়ার ডিফেন্ডার লুসিয়ানো জুরার গোলে স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল পুরো স্টেডিয়াম। নির্ধারিত নব্বই মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকার পর শেষ মুহূর্তের ইনজুরি টাইমে লুয়ান পেরেজ পেট্রোনির গোলে পরাজয় এড়াতে সক্ষম হয় সান্তোস।
তবে ড্রয়ের আনন্দের চেয়ে সান্তোসের ম্যাচজুড়ে সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দেয় মাঠ থেকে নেইমারের লাল কার্ড দেখার বিতর্কিত ঘটনা।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা নতুন করে শুরুর ঠিক আগের মুহূর্তে বাহিয়ার খেলোয়াড় রদ্রিগো নেস্তরের সাথে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বলছিলেন নেইমার। ওই সময় ম্যাচ রেফারি স্যাভিও পেরেইরা সাম্পাইও অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে ছিলেন। কিন্তু মাঠের ভেতরে নেস্তরের জোরালো অভিযোগের ভিত্তিতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআরের সাহায্য নেন ম্যাচ রেফারি। দীর্ঘ প্রযুক্তিগত পর্যালোচনা শেষে রেফারি সরাসরি লাল কার্ড বের করে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে।
এই লাল কার্ডের কঠোর পরিণতি হিসেবে সান্তোসের জার্সিতে আগামী বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পালমেইরাসের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন না নেইমার।
শুধু তা-ই নয়, টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যে তিনটি হলুদ কার্ড দেখে ফেলার কারণে নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পড়ে আগামী সোমবারের পরবর্তী খেলায় ব্রাগান্তিনোর বিপক্ষেও দর্শক সারিতেই কাটাতে হবে তাঁকে।
ম্যাচ শেষ করে বহিষ্কৃত অবস্থায় টানেল দিয়ে হেঁটে বের হয়ে যাওয়ার সময় চরম ক্ষোভ উগরে দেন এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। একটি ভিডিওতে ক্ষুব্ধ নেইমারকে বলতে শোনা যায়, তারা আসলে হালকা মেজাজে নিছক মজা করছিলেন এবং পরস্পরের সাথে হাসাহাসি করছিলেন। ঠিক এমন সময় তিনি নেস্তরের সাথে কিছু বলতে এগিয়ে যান এবং ভুলবশত হাত মুখের ওপর উঠে আসে। তিনি কোনো মন্তব্য করার আগেই নেস্তর রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাত তুলে আবেদন শুরু করে দেন। ঘটনাটিকে ফুটবলের অন্যতম এক ‘নোংরা কৌশল’ আখ্যা দিয়ে নেইমার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মাঠে নেস্তরকে তিনি পরবর্তীতে আলাদাভাবে দেখে নেবেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন