রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,
হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ইরানে হামলা আজই চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: হুঁশিয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ১১:৪২ এএম

ইরানে হামলা আজই চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: হুঁশিয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী রোববারই (২৫ অক্টোবর) ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালাতে পারে বলে সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে আরেকটি ‘ছোট এপিক ফিউরি’ অভিযান পরিচালনার সরাসরি হুমকি দিয়েছিলেন। তবে একই সাথে দীর্ঘ আট মাস ধরে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ইতি টানতে একটি ‘চমৎকার, বড় ও সুন্দর’ নতুন চুক্তির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বর্তমানে এক জটিল সামরিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থায় রূপ নিয়েছে।

শনিবার সকালে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকরা সরাসরি জানতে চেয়েছিলেন যে মার্কিন বাহিনী অবিলম্বে ইরানে নতুন করে আক্রমণ পরিচালনা করবে কি না।

প্রশ্নটি শুনে কিছুটা ব্যঙ্গ করে ট্রাম্প বলেন, তারা কি সত্যিই প্রত্যাশা করেন যে তিনি আগেই এই সামরিক সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করে দেবেন? এক সাংবাদিক যখন যুক্তি তুলে ধরেন যে সাংবাদিক হিসেবে তাদের এমন প্রশ্ন তো করতেই হবে, তখন ট্রাম্প সেই প্রশ্নকে ‘বোকামিপূর্ণ’ আখ্যা দেন। তবে আক্রমণ চালানোর বিষয়টি যে সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে, তা অস্বীকার করেননি তিনি।

ট্রাম্প সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, হয়তো আগামীকালই সেই হামলা পরিচালনা করা হতে পারে, কারণ সেই সামরিক সম্ভাবনা বাস্তব। আবার বিপরীত দিকে একটি চমৎকার, বড় ও সুন্দর চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথও খোলা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, তেহরান আসলে একটি সমঝোতা করতে আগ্রহী, তবে মূল সংকট হলো তারা পরবর্তীতে সেই চুক্তির কঠোর শর্তগুলো বাস্তবে মেনে চলবে কি না।

ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রাগার গড়ে তুলতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই যুক্তরাষ্ট্র অতীতে দেশটিতে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এর আগে শুক্রবারও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আঘাত হানার জোরালো পূর্বাভাস দিয়েছিলেন ট্রাম্প। চলমান যুদ্ধের শুরুতে ইরানে ব্যাপক মাত্রায় পরিচালিত যৌথ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানের সামরিক সাংকেতিক নাম ছিল ‘এপিক ফিউরি’। সেই অভিযানের সূত্র টেনে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, তারা ইরানে আরেকটি ছোট্ট ‘এপিক ফিউরি’ পরিচালনা করতে পারেন।

তবে এই বক্তব্যের আগে এক ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে বড় কোনো সামরিক অভিযান চালানো হবে না।

শুধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই নন, মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কূটনীতিকরাও এমন যুদ্ধের আশঙ্কা উসকে দিচ্ছেন। তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে বলেন, চলতি সপ্তাহান্তেই নতুন আক্রমণ পরিচালিত হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা শতভাগ বিদ্যমান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আকস্মিক যৌথ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সূচনা ঘটেছিল। ওই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা নিহত হন।

সেই প্রাণঘাতী আঘাতের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক পাল্টাদফা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে তেহরান। একই সঙ্গে তারা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের প্রধান সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

সংঘাত বন্ধে গত ১৭ জুন ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ১৪ দফার একটি যুদ্ধবিরতি ও শান্তি কাঠামো চুক্তিতে সই করেছিলেন। ওই চুক্তির মূল শর্ত ছিল লেবাননসহ পুরো অঞ্চলের সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো।

কিন্তু সেই উদ্যোগ স্থায়ী রূপ পায়নি।

গত ৮ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এককভাবে ওই শান্তি প্রক্রিয়াকে ‘বাতিল ও সমাপ্ত’ ঘোষণা করেন। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে এর ঠিক এক সপ্তাহ পর তেহরানও সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো স্থগিত করে দেয়। এর পর থেকে ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন যে ইরানের সাথে নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে তাঁর কোনো ধরনের ব্যক্তিগত তাড়া বা তাড়াহুড়ো নেই।

একই সময়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ক্ষমতাচ্যুত করে সম্পূর্ণ উৎখাতের প্রকাশ্য হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ফলে আলোচনা ও চরম সামরিক হুমকির দোলাচলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো মুহূর্তে সর্বাত্মক ধ্বংসযজ্ঞ ছড়িয়ে পড়ার তীব্র শঙ্কা তৈরি হয়েছে।