অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম
উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন নতুন সীমান্ত সেতু অতিক্রম করে অত্যন্ত গোপনে চীনের সীমান্ত শহর দানদংয়ে আকস্মিক এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। প্রায় ১২ বছর আগে নির্মিত তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এবং চার লেনের ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় শনিবার এই বিশেষ সফর অনুষ্ঠিত হয়। একদিনের এই সংক্ষিপ্ত সফর শেষে তিনি ইতিমধ্যে উত্তর কোরিয়ায় ফিরে গেছেন।
সফরকালে উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গী ছিলেন চীনের রাজনৈতিক কাঠামোর চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ওয়াং হুনিং।
তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে কিম জং উনের কাছে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা যৌথভাবে দানদং শহরের একটি স্থানীয় অটোমোবাইল নির্মাণ কারখানা পরিদর্শন করেন। এ সময় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অংশীদারি জোরদারের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
পরিদর্শনকালে কিম জং উন জানান, চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখতে এবং বহুমুখী ব্যবহারিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে তার দেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের ঐতিহাসিক কোরীয় যুদ্ধে চীনা বাহিনীর অংশগ্রহণের বার্ষিকীর ঠিক পূর্বমুহূর্ত।
সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি ও সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কিম জং উন ও ওয়াং হুনিং দানদংয়ের কোরীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে যান। সেখানে উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রাণ বিসর্জন দেওয়া চীনা সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম। সফর শেষে নতুন ইয়ালু সেতুর সংযোগস্থলে এসে উত্তর কোরীয় নেতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই আধুনিক চার লেনের সেতু চালু হওয়ায় চীন ও উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত বাণিজ্যের প্রধান বাধা দূর হয়েছে। তবে নিছক বাণিজ্যিক স্বার্থের বাইরে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর অক্ষের সাথে ঐক্য সুসংহত করতেই কিম জং উন এই আকস্মিক সফর করেছেন বলে মনে করছেন ভূরাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন