অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য অদূর ভবিষ্যতে এক বড় ধরনের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনার পর সেখানে ব্যাপক সামরিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ওই অভিযানের ঘোষণার পাশাপাশি ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে এই কঠোর বার্তা দেন তিনি।
ইসরায়েলের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করেন।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ফিলিস্তিনকে কোনো অবস্থাতেই যেন একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে না দেওয়া হয়, সেটিই নিশ্চিত করা তাঁর সরকারের ও আসন্ন নির্বাচনের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে কি চূড়ান্তভাবে ভেঙে দেওয়া হবে—এমন সরাসরি প্রশ্নের উত্তর তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান। তবে তিনি মন্তব্য করেন, যেকোনো ক্ষেত্রে হঠাৎ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ গ্রহণ করাই তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দের কৌশল।
নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, ফিলিস্তিনের দিক থেকে ধেয়ে আসা যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইসরায়েল কিছু অত্যন্ত গোপন কৌশল প্রয়োগ করবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য খুব দ্রুতই এক মারাত্মক ধাক্কা আসছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের রূপান্তরের ইঙ্গিত দিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে গিয়েই তাঁরা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের পরিধি বাড়াতে সক্ষম হবেন।
এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আরও কয়েকটি প্রভাবশালী আরব রাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক মৈত্রী চুক্তি সম্পাদন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি দাবি করেন।
নেতানিয়াহুর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত দুটির বেশি আরব দেশের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওই আরব দেশগুলো ইসরায়েলের সাথে চুক্তি করার ক্ষেত্রে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো পূর্বশর্ত জুড়ে দেবে না। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলো ভালোভাবেই অবগত যে ইসরায়েল এই শর্ত কখনোই মেনে নেবে না।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন