শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,
ইসলাম ও জীবন

সাহাবির ত্যাগের বিয়েতে মহানবী সা.-এর বিশেষ বরকতের দোয়া

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

সাহাবির ত্যাগের বিয়েতে মহানবী সা.-এর বিশেষ বরকতের দোয়া

পরিবারের প্রতি আন্তরিক দায়িত্ববোধ কেবল মুখের কথায় নয়, বাস্তব ত্যাগ ও কাজের মাধ্যমেই ফুটে ওঠে। আপনজনদের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া ও আনন্দকে হাসিমুখে বিসর্জন দেওয়ার অনন্য নজির স্থাপন করেছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের তরুণ সাহাবি হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

উহুদ যুদ্ধের ঐতিহাসিক মুহূর্তে পিতা আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু শাহাদাত বরণ করার পর তরুণ জাবিরের কাঁধে এসে পড়ে সাত থেকে নয়জন ছোট বোনের অভিভাবকত্বের বিশাল দায়িত্ব।

পিতৃহীন বোনদের সঠিক পরিচর্যা ও মানুষ করার তাগিদে তিনি নিজের কোনো তরুণী বা কুমারী মেয়েকে বিয়ে করার ব্যক্তিগত ইচ্ছাকে অগ্রাধিকার দেননি। বরং বোনদের পরম মমতায় আগলে রাখতে একজন অভিজ্ঞ ও বয়োবৃদ্ধ বিধবা নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন।

পরবর্তীতে নবীজি যখন তার এই বিয়ের খবর পান, তখন এক অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী কথোপকথন অনুষ্ঠিত হয়। মহানবী জানতে চাইলেন তিনি কুমারী নাকি কোনো বিধবা নারীকে বিয়ে করেছেন। জবাবে জাবির যখন বিধবা নারীকে বিয়ের কথা জানান, তখন রাসুলুল্লাহ স্নেহের ছলে জানতে চান কেন তিনি সমবয়সী কোনো তরুণীকে বিয়ে করলেন না, যার সাথে পারস্পরিক আনন্দ ও হাসিখুশি সময় ভাগ করে নেওয়া যেত।

তখন বিনয়ের সাথে জাবির নিজের গভীর প্রজ্ঞাপূর্ণ সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেন।

তিনি মহানবীকে জানান, তার পিতা শাহাদাতের সময় বহু ছোট কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। তিনি চাননি বোনদের মতো অনভিজ্ঞ কোনো তরুণীকে সংসারে এনে তাদের ওপর বসিয়ে দিতে, যে তাদের সার্বিক যত্ন নিতে পারবে না। তাই তিনি এমন একজন অভিজ্ঞ নারীকে ঘরে এনেছেন যিনি বোনদের চুল আঁচড়ে দেবেন, সুন্দর শিষ্টাচার ও আদব-কায়দা শেখাবেন এবং সুচারুভাবে তাদের গড়ে তুলতে সহায়তা করবেন।

তরুণ সাহাবির এমন অসাধারণ দায়িত্বশীলতা ও বোনদের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেখে আল্লাহর রাসুল অত্যন্ত আনন্দিত হন। তিনি এই সিদ্ধান্তের অকুণ্ঠ প্রশংসা করেন এবং উচ্চারণ করেন ‘বারাকাল্লাহু লাকা’, যার অর্থ আল্লাহ আপনার ওপর বরকত নাজিল করুন। বুখারি শরিফের ৫৩৬৭ এবং মুসলিম শরিফের ১৪৬৬ নম্বর হাদিসে এই বরকতময় দোয়ার বর্ণনা লিপিবদ্ধ রয়েছে।

ইসলামের বিধানে পরিবারের সদস্য ও এতিম স্বজনদের দেখভালের মর্যাদা অত্যন্ত সুউচ্চ। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন যে ব্যক্তি তিনটি কন্যা বা তিনজন বোনের দায়িত্বে ধৈর্য ধারণ করবে এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের ভরণপোষণ ও পোশাকের ব্যবস্থা করবে, কিয়ামতের ময়দানে তারা ওই ব্যক্তির জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষাকারী ঢাল হিসেবে দাঁড়াবে। ইবনে মাজাহর ৩৬৬৯ এবং মুসনাদে আহমাদ গ্রন্থের ১৬৮২৬ নম্বর হাদিসে এই নির্দেশনা উল্লেখ রয়েছে।

পবিত্র কুরআনের সুরা আল-বাকারার ২২০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ জানিয়েছেন, এতিমদের অবস্থার সংশোধন ও সার্বিক কল্যাণ সাধন করাই সর্বোত্তম।

হজরত জাবিরের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে বিবাহিত জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাহ্যিক রূপ বা বয়সের চেয়ে পরিবারের সামগ্রিক কল্যাণ ও মানসিক প্রজ্ঞাকে প্রাধান্য দেওয়াই প্রকৃত দায়িত্বশীলতা।