অক্টোবর ২০, ২০২৬, ১০:১৮ এএম
সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো ইনসাফ বা ন্যায়বিচার। ইসলাম যে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে, ইনসাফ তার মধ্যে অন্যতম। পক্ষপাতহীন ন্যায়বিচার ছাড়া মানবসমাজে প্রকৃত শান্তি, মানুষের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা অসম্ভব। ইসলাম কেবল ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।
ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ধাপে সমতা ও সুবিচার কায়েমের সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে এই ধর্মে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার ও সদাচরণের নির্দেশ দেন (সুরা আন-নাহল, আয়াত: ৯০)।
ইসলামে ন্যায়বিচারের এমন কঠোর শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত স্বার্থ, পারিবারিক টান, আত্মীয়তার বন্ধন কিংবা দলীয় পরিচয় কোনোভাবেই বিচারের পথে বাধা হতে পারে না।
সুরা আন-নিসার ১৩৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, হে মুমিনগণ, তোমরা ন্যায়বিচারে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং আল্লাহর জন্য সাক্ষ্য দাও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের, পিতা-মাতা কিংবা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে যায়।
এই নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায় যে নিজের বা পরিবারের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হলেও কখনো সত্য গোপন করা যাবে না। আপনজন অন্যায় কাজে জড়ালেও তাকে কোনো ধরনের সমর্থন দেওয়ার সুযোগ ধর্মে নেই।
অথচ বর্তমান সমাজব্যবস্থায় অনেক সময় অপরাধের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হয় না। বরং অপরাধী কোন পক্ষের লোক, কার আত্মীয় কিংবা কার অনুসারী—সেটি বিবেচনায় নেওয়া হয়। আপনজনের অন্যায়কে কৌশলে আড়াল করা এবং প্রতিপক্ষের সামান্য ভুলকে বড় করে দেখানোর এই পক্ষপাতদুষ্ট মানসিকতা সমাজের সামগ্রিক নৈতিক ভিত্তিকেই দুর্বল করে দিচ্ছে।
ইসলামের নীতি হলো কোনো অবস্থাতেই নিরপেক্ষতা বিসর্জন দেওয়া যাবে না।
সুরা আল-মায়িদার ৮ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদের ন্যায়বিচার থেকে বিরত না রাখে। তোমরা ন্যায়বিচার কর। এটাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী।
এই বাণীর মাধ্যমে ইসলাম শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে সমাজের সব মানুষের জন্য সমতার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চূড়ান্ত শিক্ষা দিয়েছে।
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চরপাথালিয়া সালমান ফারসী (রা.) মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা আল আমিন সরকার এক আলোচনায় এই ধর্মীয় দিকনির্দেশনা ও সামাজিক দায়িত্বের বিষয়গুলো বিস্তারিত তুলে ধরেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন