সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

পূজায় নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: অংশ নিলে ঈমান থাকবে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

পূজায় নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: অংশ নিলে ঈমান থাকবে

দেশে বসবাসকারী অমুসলিম নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলেও উদারতার নামে কোনো মুসলমান পূজায় অংশ নিলে তার ঈমান থাকবে না বলে জানিয়েছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতী আব্দুল মালেক। সম্প্রতি জুমার বয়ানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ইসলামের মূল ভিত্তি হলো তাওহীদ।

খতিব উল্লেখ করেন, ইসলামের প্রধানতম ভিত্তি হলো একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলার ইবাদত করা। আল্লাহ তাআলা চাইলে তাওহীদে অবিচল বিশ্বাসীদের অন্যান্য ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিতে পারেন, কিন্তু শিরকের মতো মহাপাপ তিনি কখনো ক্ষমা করবেন না। মানবজাতিকে শিরক থেকে রক্ষা করে একত্ববাদের ছায়াতলে আনতেই যুগে যুগে সমস্ত নবী ও রাসূলকে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছে।

দেশের অমুসলিম জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকারের বিষয়ে খতিব জানান, অন্য ধর্মের অনুসারীদের নিজ নিজ গণ্ডির মধ্যে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে এবং এতে ইসলামের কোনো বাধা নেই।

অন্য ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে তাদের পূজা বা উৎসব সম্পন্ন করতে পারেন, সেই সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের আবশ্যিক ও জরুরি দায়িত্ব।

তবে আকিদাগত সীমানা স্পষ্ট করে মুসলমানদের সতর্ক করেন তিনি।

মুফতী আব্দুল মালেক বলেন, কোনো মুসলমান যদি সামাজিক উদারতা বা সম্প্রীতির নামে সরাসরি পূজায় অংশ নেন কিংবা পূজার কর্মকাণ্ডকে সঠিক পথ হিসেবে স্বীকৃতি দেন বা সমর্থন করেন, তবে তাঁর ঈমান থাকবে না। অন্য ধর্মের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া এবং আকিদাগতভাবে শিরককে সমর্থন করা কখনো এক বিষয় নয়।

বয়ানে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ঐতিহাসিক ক্ষমার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন বায়তুল মোকাররমের খতিব।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তায়েফের ময়দানে চরম নির্যাতন ও রক্তাক্ত হওয়ার পরও মহানবী (সা.) জালিমদের কোনো ধ্বংস কামনা করেননি। বরং তিনি তাদের নিরাপত্তার প্রার্থনা করেছিলেন এই প্রত্যাশায় যে, তারা নিজে ঈমান না আনলেও হয়তো তাদের বংশধরেরা ভবিষ্যতে এক আল্লাহর ইবাদত করবে এবং শিরকমুক্ত থাকবে।

মুসলমানদের নিজস্ব ধর্মীয় মূল আকিদা ও বিশ্বাসে অবিচল থেকে সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং ন্যায়বিচার বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।