বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,

শিক্ষা ও সমাজের বর্তমান হাল নিয়ে নতুন ওয়াজে আবু ত্বহা মুহাম্মাদ আদনান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম

শিক্ষা ও সমাজের বর্তমান হাল নিয়ে নতুন ওয়াজে আবু ত্বহা মুহাম্মাদ আদনান

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা, কোরআন না বুঝে পড়া এবং দ্বীনের খণ্ডিত অংশ নিয়ে মানুষের স্বার্থ উদ্ধারের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইসলামি বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মাদ আদনান। সম্প্রতি তার একটি নতুন ওয়াজ প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তিনি মানুষের গড় আয়ু, শিক্ষাজীবন এবং ধর্মীয় জ্ঞানের অভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। জীবনের সময়কাল নিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পরীক্ষার জন্য মানুষের জীবনের দৈর্ঘ্য গোপন রেখেছেন। এই উম্মতের গড় আয়ু ৬৩ থেকে ৬৪ বছর। তিনি জীবনের সময়কালকে ভাগ করে বলেন, প্রথম ১০ বছর মানুষ ভালো-মন্দ বোঝে না, আর শেষের ১০ বছর রোগে কাটে। মাঝখানের যে ৪০ বছর থাকে, তার মধ্যে প্রথম ১৬ থেকে ২০ বছর স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনায় চলে যায়। 

এরপর চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিয়ে-শাদিতেই সময় কেটে যায়। আবু ত্বহা আদনান বলেন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ২০ বছরের শিক্ষাজীবনে আমরা কোরআন শিখছি না, হাদিস শিখছি না, সিরাত শিখছি না, ইসলামের ইতিহাস পড়ছি না এবং আকিদার কোনো আলাদা বিষয়ও নেই। এমনকি বিশুদ্ধ করে কোরআন তেলাওয়াতও শেখানো হচ্ছে না।

সমাজের চিত্র তুলে ধরে এই বক্তা বলেন, আমাদের সমাজে অসংখ্য মানুষ পাওয়া যাবে যারা মাস্টার্স বা ডক্টরেট পাস করেছেন, প্রশাসনে বা সংসদে বড় পদে আছেন, কিন্তু তারা বিশুদ্ধ করে কোরআন তেলাওয়াত করতে পারেন না। তিনি বলেন, "বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের সমাজে আমরা বলি যে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ মুসলিম। কিন্তু ৯০ শতাংশ মুসলিম নামাজ পড়ে না এবং ৯০ শতাংশ মুসলিম কোরআন ঠিকমতো তেলাওয়াত করতে পারে না।"

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সাহাবায়ে কেরামের যুগে শতভাগ মুসলিম শুধু নামাজ পড়তেন না, কোরআন তেলাওয়াত ও এর গভীর অর্থও বুঝতেন। অথচ বর্তমানে আরবি না জানার কারণে অনেক মুসল্লি জুমার খুতবার সময় ঘুমান বা মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকেন। তারাবির নামাজে পুরো কোরআন খতম করার পরও মানুষ সুদের আয়াতের ভয়াবহতা বুঝতে পারে না এবং সুদ ছাড়তে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১০ থেকে ২০ বছর পড়াশোনা করেও কোনো ফায়দা হচ্ছে না। ক্লাস নেওয়া, অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়া এবং পরীক্ষা পদ্ধতি খুব একটা কাজে দিচ্ছে না। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশ যখন ২০৩০ বা ২০৫০ সালের ভিশন নিয়ে কাজ করছে, তখন আমরা পেছনের দিকের চেতনা নিয়ে টকশো ও সেমিনারে কথা বলছি। পাশ্চাত্যের দেশগুলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে গেছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, "দুনিয়াবি শিক্ষা শিখে আমরা আসলে কী অর্জন করেছি? কয়জন বিশ্বমানের বিজ্ঞানী, ডাক্তার বা প্রকৌশলী আমাদের দেশে তৈরি হয়েছে? আমাদের কয়টা অ্যাপস, সার্ভার বা সার্চ ইঞ্জিন আছে?" মাদ্রাসায় পড়লে মানুষ পিছিয়ে পড়বে—এমন ধারণার বিপরীতে তিনি বলেন, জেনারেল লাইনে পড়েও আমরা আশানুরূপ উন্নতি করতে পারিনি। তিনি বলেন, বিশ্বে যাদের কাছে উন্নত জনবল, দক্ষ কর্মী, শক্তিশালী অর্থনীতি এবং সামরিক শক্তি থাকে না, তাদের কেউ মূল্যায়ন করে না।

আবু ত্বহা আদনান বলেন, যে যুগে মানুষ মূর্তিপূজা করত, সুদ খেত এবং জিনা-ব্যভিচার করত, সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজকে মাত্র ২৩ বছরে কোরআন আলোকিত করেছিল। নবী মুহাম্মদ (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরাম কোরআনের হক আদায় করেছিলেন এবং সমাজ পরিবর্তন করেছিলেন। সেই পরিবর্তিত কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে মুসলমানরা শত শত বছর বিশ্ব শাসন করেছে। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর থেকে মুসলমানদের অধঃপতন শুরু হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোরআন ও সুন্নাহর জ্ঞানের সাথে সমসাময়িক উপকারী জেনারেল শিক্ষার সমন্বয় হলেই এই জাতির সবদিক থেকে উন্নয়ন সম্ভব।

তিনি অভিযোগ করেন, ধর্ম নিয়ে যা হওয়া দরকার ছিল তা হচ্ছে না। আল্লাহ দ্বীন ইসলামকে সব দ্বীনের ওপর বিজয়ী করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আল্লাহকে ভয় করা, ইবাদত করা এবং দাওয়াত ও জিহাদের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আবু ত্বহা আদনানের মতে, "দ্বীনকেন্দ্রিক আমল, দাওয়াত, তাবলীগ এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম না করে দ্বীনের খণ্ডিত অংশ নিয়ে আমরা আমাদের স্বার্থ উদ্ধার করছি। দ্বীনের খণ্ডিত অংশ নিয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিচালিত হচ্ছে।"