অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
ইরান ও দেশটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের তিন গুরুত্বপূর্ণ দেশে একযোগে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য এই জরুরি নির্দেশনা জারি করে।
আকাশসীমা বন্ধের প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সতর্কবার্তায় নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে, যেকোনো সময় আকস্মিক ফ্লাইট বাতিল কিংবা আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সাধারণ ও বাণিজ্যিক আকাশ যোগাযোগে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যকার তীব্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়। সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন মিশনগুলো। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর এবং জ্বালানিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতিদের অতীতের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিবরণ বিবৃতিতে বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে হুতিরা নিয়মিত আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। অতীতে এই ধরনের হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণব্যবস্থায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। দূতাবাস স্পষ্টভাবে জানায়, বিদ্যমান এই সংঘাত সংবেদনশীল অঞ্চলের বাইরেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ও যাতায়াতকারী নাগরিকদের সার্বক্ষণিক বিভিন্ন বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইট সূচির ওপর সরাসরি নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রা বাতিলের বিকল্প পরিকল্পনা আগেভাগেই প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে সম্ভাব্য হামলার আওতা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়, ইরান ও তাদের মদদপুষ্ট সশস্ত্র সংগঠনগুলো কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বরং বিদেশের মাটিতে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা কিংবা বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ওপর আক্রমণ চালাতে পারে। এর মধ্যে মার্কিন বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সহযোগী সংস্থাও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
দেশভিত্তিক সর্বশেষ নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মার্কিন নাগরিকদের পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখার পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনরুদ্বারে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযান বৃদ্ধি পাওয়ার পরই এই অচলাবস্থা তীব্র হয়েছে।
সৌদি জোট সম্প্রতি রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় হুতিদের সামরিক আস্তানা লক্ষ্য করে একের পর এক জোরালো বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের প্রধান তেল স্থাপনা ও অন্যান্য সংবেদনশীল অবকাঠামোতে নতুন করে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর সরাসরি হুমকি দিয়ে রেখেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন