অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ১০:২১ এএম
অমুসলিমদের উৎসবে মুসলমানদের আচরণ কেমন হওয়া প্রয়োজন এবং ইসলামের ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যের সীমারেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহ।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহনশীলতার যে ঐতিহ্য বিদ্যমান, বিশ্বজুড়ে তা বিরল দৃষ্টান্ত। এই সম্প্রীতির মধ্যেও অতীতে যেসব অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে সেগুলোর পেছনে মূল কারণ ধর্ম নয়, বরং রাজনৈতিক স্বার্থ। কতিপয় অসাধু চক্র ধর্মের পরিচয়কে ব্যবহার করে উত্তেজনা ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেছে। এই সংকটটুকু বাদ দিলে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি এই জনপদের হাজার বছরের ইতিহাস।
পবিত্র কোরআনের সুরা মুমতাহিনার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, যারা ধর্মের কারণে মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত করেনি, তাদের সঙ্গে সদয় ব্যবহার ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ নিষেধ করেননি। বরং ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন মহান আল্লাহ। এই আয়াত অনুযায়ী স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অমুসলিমদের সঙ্গে মার্জিত সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা মুমিনের দায়িত্ব।
তিনি নবীজির (সা.) একটি সুপরিচিত ঘটনা তুলে ধরেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার একটি মৃতদেহ দেখে সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন সাহাবিরা বললেন, এটি তো এক ইহুদির মরদেহ। উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রশ্ন করেছিলেন, ‘সে কি মানুষ নয়?’ এই ঘটনার মধ্য দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, যে ধর্মেরই হোক না কেন মানুষ হিসেবে প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করা মহানবীর সুন্নাহ।
উদার হতে গিয়ে নিজস্ব ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্য বিসর্জন দেওয়া যাবে না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসলাম উদার হতে শেখালেও ধর্ম বিষয়ে উদাসীন হওয়ার অনুমতি দেয় না। হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার সময় উদারতার নামে অনেকে অসচেতন হয়ে পড়েন এবং ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ স্লোগান তোলেন। এই স্লোগানের প্রবক্তারা শুধু পূজার সময়েই এটি সামনে আনেন, মুসলমানদের রোজা কিংবা কোরবানির ঈদে এই কথা বলেন না। এর মধ্য দিয়ে তাদের বিশেষ উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়। ইসলাম অন্যের ওপর নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস চাপিয়ে দেওয়ার সমর্থন করে না, ফলে মুসলমানদের উৎসবেও ভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের অবকাশ নেই।
পূজার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, পূজার মূল বিষয় হলো শিরক, যা ইসলামে ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ। পবিত্র কোরআনের সুরা লোকমানে শিরককে মহা অন্যায় এবং সুরা নিসায় শিরকের গুনাহ ছাড়া অন্যান্য পাপ আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করার কথা বলেছেন।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পূজা-অর্চনা করবে এবং সেখানে কোনো বাধা সৃষ্টি করার শিক্ষা ইসলাম কখনো দেয় না। কিন্তু শিরকযুক্ত কোনো ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় একজন মুসলমানের কোনোভাবেই শরিক হওয়ার সুযোগ নেই।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন