শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,

চা খাতের উন্নয়নে সরকারের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও বড় উদ্যোগ গ্রহণ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

চা খাতের উন্নয়নে সরকারের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও বড় উদ্যোগ গ্রহণ

চা খাতের উন্নয়নে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় সংকোচন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বাগানগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

এই লক্ষ্য অর্জনে সহজ শর্তে আর্থিক সুবিধা প্রদান, বিদ্যমান সুদের হার হ্রাস, বহু পুরোনো অনুৎপাদনশীল চা গাছের বদলে নতুন চারা রোপণ, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং বাগানগুলোর অনাবাদি ও পতিত জমিতে বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। দেশের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক ও টেকসই করতে বাগানভিত্তিক স্বতন্ত্র কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে জোর দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে চা শিল্পের সার্বিক বিকাশে গঠিত তদারকি ও পরামর্শক কমিটির প্রথম আনুষ্ঠানিক সভায় এসব কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, কমিটির প্রথম বৈঠকে খাতের সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তারিত মূল্যায়ন হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৯৭ শতাংশ চা স্থানীয় বাগানগুলোতেই উৎপাদিত হচ্ছে এবং চাহিদার অতিরিক্ত অংশ বিদেশে পাঠানো হয়। সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো স্থানীয় চাহিদা পুরোপুরি সুনিশ্চিত করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণ করা।

এজন্য চায়ের গুণগত মান বাড়ানো এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস, কনস্যুলেট ও বৈশ্বিক রপ্তানি অংশীদারদের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার করা হচ্ছে। দেশীয় বাগানগুলোতে এখন সনাতন সিটির পাশাপাশি গ্রিন টি, অর্থোডক্স টি, হোয়াইট টি এবং উন্নত সিটিসি ব্ল্যাক টি উৎপাদিত হচ্ছে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান একাধিক জাতের চায়ের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে নতুন ফ্লেভার তৈরির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তুলছে।

একই সঙ্গে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ আনতে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট নিয়মিত গবেষণা চালাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট জনবলকে আধুনিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

কমিটির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৭২টি নিবন্ধিত চা বাগান রয়েছে।

এসব বাগানের মোট জমির পরিমাণ ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৯৬ একর। এর মধ্যে চাষযোগ্য জমি হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯১ একর। নার্সারিসহ বর্তমানে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৯ একর জমিতে নিয়মিত চা আবাদ হচ্ছে।

বাকি ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৩৭ একর জমি বিভিন্ন অবকাঠামো ও সহায়ক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে সরাসরি চা আবাদের জন্য অবশিষ্ট রয়েছে ১৬ হাজার ৯২৮ একর জমি। তবে বিকল্প কোনো বিনিয়োগে যাওয়ার আগে জমির সঠিক ব্যবহার, পরিবেশগত ভারসাম্য ও বাগান ব্যবস্থাপনার ওপর কঠোর নজরদারি রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিগত ২০২৫ সালে দেশে রেকর্ড ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে।

যার মধ্যে শুধু উত্তরাঞ্চলের সমতলের বাগানগুলো থেকেই এসেছে ২ কোটি ২৩ হাজার কেজি। ওই বছর দেশে প্রতি হেক্টরে জাতীয় গড় উৎপাদন দাঁড়িয়েছিল ১ হাজার ৫৫২ কেজি।

উৎপাদন বৃদ্ধির প্রভূত সম্ভাবনা থাকলেও অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে পুরোনো গাছ। অনেক বাগানের চা গাছের বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছর বা তারও বেশি পেরিয়ে গেছে।

পর্যাপ্ত হারে নতুন চারা রোপণ করতে না পারা, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, সার-কীটনাশকসহ অন্যান্য উপকরণের বাড়তি দাম এবং ভারত, শ্রীলঙ্কা ও কেনিয়ার তুলনায় হেক্টরপ্রতি কম উৎপাদনের কারণে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন দেশীয় উৎপাদকরা।

এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি স্পষ্ট করেছেন, চা খাতের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী মনে করেন, কেবল ঋণের ওপর নির্ভর করে কোনো শিল্পের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। চা শিল্পকে এমন মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে, যাতে বাগানগুলো নিজস্ব রাজস্ব আয়ে পরিচালিত হতে পারে এবং কর ও ভ্যাট প্রদানের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে বলিষ্ঠ অবদান রাখতে সক্ষম হয়।

চা খাতের অগ্রযাত্রায় সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বকেয়া ঋণের পাহাড়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চা খাতে এ পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৪ হাজার ১৭৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে আদায় করা সম্ভব হয়েছে ৩ হাজার ১৩৩ কোটি ৬ লাখ টাকা। বর্তমানে এই খাতে অনাদায়ী বকেয়া ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮২৬ কোটি ৯ লাখ টাকা।

উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যার মধ্যে চূড়ান্ত মন্দ ঋণই ২১৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এছাড়া ইতিপূর্বে পুনঃতফসিল করা হয়েছে ৫১৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকার ঋণ।

এই তীব্র আর্থিক চাপ কমিয়ে সচল ও সম্ভাবনাময় বাগানগুলোর উৎপাদন অব্যাহত রাখতে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল এবং সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন ঋণসুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চাষিদের সহায়তায় ৬ শতাংশ রেয়াতি সুদে একটি বিশেষ আবর্তক তহবিল গঠনের প্রস্তাব তোলা হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান ১৮ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের একটি পৃথক প্রস্তাবও বর্তমানে অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ বার্ষিক সুদে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।

তবে ৬ শতাংশ সুদের প্রস্তাবিত তহবিল এবং ২ হাজার ৫০ কোটি টাকার এই পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি দুটি সম্পূর্ণ পৃথক উদ্যোগ এবং কোনোটিই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়নি।

এর পাশাপাশি চা উৎপাদনের নিয়মিত ঋণের চড়া সুদের হার বর্তমান ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে একলাফে ৪ শতাংশে নামিয়ে আনার একটি যুগান্তকারী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।

ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ভুট্টার মতো জরুরি খাদ্যশস্যে সরকার যেভাবে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদে ঋণ দেয়, চা চাষেও একই সুবিধা সম্প্রসারণের যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চা চাষকে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি টেবিলে এসেছে। এই স্বীকৃতি পেলে বাগান মালিক ও ক্ষুদ্র চাষিরা সরাসরি কৃষি খাতের কম সুদের ঋণ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন।

বাংলাদেশ চা বোর্ড এই প্রস্তাবের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অভিমত, চা খাতের মোট কর্মকাণ্ডের প্রায় ৬০ শতাংশই নার্সারি তৈরি, চারা রোপণ, গাছের ডালপালা ছাঁটাই, নিয়মিত পরিচর্যা এবং পাতা তোলার সাথে সম্পৃক্ত, যা শতভাগ কৃষিকাজের অংশ। বাকি ৪০ শতাংশ কার্যক্রম মূলত কারখানায় প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শিল্পভিত্তিক।

তবে শিল্প মন্ত্রণালয় চা-কে এককভাবে কৃষিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে। জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২-এর বিধান অনুযায়ী চা প্রক্রিয়াজাতকরণকে পূর্ণাঙ্গ শিল্প কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমন্বিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সমঝোতা প্রয়োজন।

চা চাষের অনুপযোগী ও অনাবাদি জমিকে কাজে লাগিয়ে বিকল্প আয়ের পথ তৈরির প্রস্তাব করেছে পরামর্শক কমিটি।

অনুমোদিত জমিতে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বে বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সুপারিশ এসেছে, যার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র প্রয়োজন হবে। একই সাথে চা কারখানার সুবিশাল ছাদগুলোতে সৌর প্যানেল বসিয়ে নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক নীতি-নির্ধারণী সভায় চা কোম্পানিগুলোকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সাথে যৌথ উদ্যোগে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০ অনুসারে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মেটানোর জাতীয় লক্ষ্য রয়েছে। এর আওতায় ভূমিভিত্তিক সৌর পার্কগুলো থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বাগানে বিকল্প বাণিজ্যিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রতিবেশ, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সুরক্ষাকে সবার ওপরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চা বাগানসংলগ্ন স্পর্শকাতর জীববৈচিত্র্য এবং হাওর অঞ্চলের স্বাভাবিক জলবায়ু বৈশিষ্ট্য কোনোভাবেই নষ্ট করা যাবে না।

জমির সঠিক ব্যবহারে সমন্বিত বনায়ন, কৃষিকাজ এবং নেট মিটারিং পদ্ধতির আওতায় জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে আন্তর্জাতিক বাজারে চায়ের উপস্থিতি বাড়াতে চায় সরকার।

কমিটির তথ্য অনুযায়ী, বিগত ২০২৫ সালে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে ১৬ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা রপ্তানি করেছে। বিপরীতে অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে একই সময়ে দেশে মাত্র ৫ হাজার কেজি চা আমদানি করতে হয়েছে।

রপ্তানি আয়ের দিক থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশীয় চা খাত থেকে ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার অর্জিত হয়েছে। আর চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে রপ্তানি হয়েছে ৭ লাখ ৮০ হাজার ডলারের চা।

রপ্তানি আয় বহু গুণ বাড়াতে সাধারণ চায়ের চেয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি চাহিদাসম্পন্ন বিশেষায়িত ও অর্থোডক্স চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্যাকেজিং, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং এবং বৈশ্বিক মানসনদ অর্জনে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক উচ্চমূল্যের বাজারে প্রবেশ করতে রেইনফরেস্ট অ্যালায়েন্সের মতো মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক সনদের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

চা শিল্পের টেকসই পুনরুজ্জীবনে প্রতিটি বাগানের নিজস্ব সমস্যা, ভৌগোলিক অবস্থান ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করে পৃথক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এই দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণে বাণিজ্য, অর্থ, কৃষি, শিল্প, ভূমি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং চা বোর্ডের যৌথ সমন্বয় অপরিহার্য।

পরিকল্পিত এই সংস্কারগুলো সময়মতো বাস্তবায়িত হলে বাগানগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা ফেরার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চায়ের গৌরবময় অবস্থান পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে।