অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রায় ২৯ শতাংশ বর্তমানে বেকার জীবনযাপন করছেন। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের প্রায় ৫০ শতাংশ এমন পেশায় যুক্ত রয়েছেন, যেখানে তাদের অর্জিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের রিজিওনাল ইকোনমিক আউটলুক এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই বিশেষ প্রতিবেদনে চলতি বছরের ২ অক্টোবর পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, স্নাতক সম্পন্ন করা তরুণদের চাকরির বাজারে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অন্তরায় চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতার সঙ্গে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বাস্তব চাহিদার গরমিল। প্রয়োজনীয় আধুনিক দক্ষতার ঘাটতির ফলে বহু তরুণ দীর্ঘ সময় ধরে কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকছেন।
অনেকে চাকরির দেখা পেলেও নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে অনেক কম দক্ষতার কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন।
এশিয়া অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সংস্থাটি জানায়, এ অঞ্চলের বহু দেশে কৃষিসহ অনানুষ্ঠানিক খাতে চাকরির সংখ্যাই বেশি। এসব কর্মসংস্থানে কাজের নিরাপত্তা, আনুষ্ঠানিক চুক্তি এবং ভবিষ্যৎ উন্নতির সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ফলে কেবল প্রকাশ্য বেকারত্বের হার বিবেচনা করে শ্রমবাজারের ভেতরের প্রকৃত সংকট অনুধাবন করা সম্ভব নয়।
আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনসংখ্যার আকার আরও প্রসারিত হবে। বিশাল এই জনশক্তিকে সময়মতো উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা সম্ভব হলে তা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অভূতপূর্ব সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
এজন্য উৎপাদন ও সেবা খাতে উচ্চমানের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় সময়োপযোগী বাস্তবমুখী দক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। অন্যথায় যুবসমাজের মধ্যে হতাশা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
চাকরির বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ক্রমবর্ধমান বিস্তার এই শ্রম সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করছে। এশিয়ার ১৯টি দেশের প্রায় ৪ কোটি অনলাইন চাকরির বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণ করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল দেখতে পেয়েছে, যেসব পেশায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি সেখানে জনবলের চাহিদা প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে। বিপরীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের চাহিদা বাজারে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, বর্তমানে যেসব দেশের অর্থনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সরাসরি প্রভাব কম দেখা যাচ্ছে, তারাও ভবিষ্যতে তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। ম্যানুফ্যাকচারিং ও সেবা খাতে ভবিষ্যতে যেসব নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, সেগুলোর একটি বড় অংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগের ফলে পরিবর্তিত হয়ে যাবে।
শ্রমবাজারের এই কাঠামোগত দুর্বলতার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসেও কাটছাঁট করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।
সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশে।
এদিকে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক অগ্রগতিতে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর সম্ভাবনা উজ্জ্বল হওয়ায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা বাড়িয়েছে সংস্থাটি। তবে উচ্চ জ্বালানি মূল্য এবং মূল্যস্ফীতির মারাত্মক চাপে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর অর্থনীতি এখনো ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন